Published : 30 Apr 2025, 06:39 PM
কাপ্তাই হ্রদে ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস মাছ আহরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
১৬ এপ্রিল রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন রুমে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক এবং কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, “বুধবার মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ শুরু হচ্ছে। এ সময় কাপ্তাই হ্রদ নির্ভর জেলেদের ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য দেওয়া হবে। বিএফডিসির তত্ত্বাবধানে জেলেদের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হবে।”
কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, “বুধবার মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার বন্ধ হচ্ছে। মাছ শিকার বন্ধকালীনে জেলেদের খাদ্যশস্য দেওয়া হবে। এ বছর কাপ্তাই হ্রদে ৬০ মেট্রিক টন কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে।”
রাঙামাটির কাউখালী এবং রাজস্থলী উপজেলা ব্যতীত বাকি আট উপজেলা ও খাগড়াছড়ির দীঘিনালা এবং মহালছড়ি উপজেলা নিয়ে কাপ্তাই হ্রদ বিস্তৃত।
মূলত ষাটের দশকে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে বিশালাকার কৃত্রিম এই হ্রদের সৃষ্টি। সে সময় নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে হ্রদ সৃষ্টি হলেও এটি এখন মৎস্য উৎপাদন ও স্থানীয় আর্থ-সামাজিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদ নির্ভর নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ২৭ হাজারের কাছাকাছি।