Published : 02 Jun 2026, 09:20 PM
পাবনা মানসিক হাসপাতাল চত্বরে সৎসঙ্গের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত ‘বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র’ ও ‘মাতৃমন্দির’ ভবনের নিলাম কার্যক্রম আপাতত বন্ধ করেছে গণপূর্ত বিভাগ।
মঙ্গলবার সকালে ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশে’র একটি প্রতিনিধি দল পাবনার জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে দেখা করে ভবন দুটি সংরক্ষণের দাবি জানায়। পরে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের নির্দেশে নিলাম স্থগিত করা হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, পাবনা মানসিক হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও আধুনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ভবন দুটি অপসারণের পরিকল্পনা ছিল। তবে ভবনগুলোর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে আপাতত নিলাম বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সৎসঙ্গের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহসাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্য বলেন, “শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ১৮৮৮ সালে পাবনার হিমায়াতপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯২৯ সালে সেখানে সৎসঙ্গ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।
“তিনি মানুষের কল্যাণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তার প্রসারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। যার মধ্যে ছিল তার মায়ের স্মৃতিরক্ষার্থে নির্মিত ‘মাতৃমন্দির’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে তৈরি ‘বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র’।”

সৎসঙ্গের নেতাদের ভাষ্য, ১৯৪৬ সালে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ভারতের দেওঘরে চলে যাওয়ার পর ভবন দুটি দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকে। পরে এগুলো পাবনা মানসিক হাসপাতাল এলাকার মধ্যে চলে আসে।
সম্প্রতি ভবন দুটি ভেঙে ফেলার জন্য দরপত্র আহ্বানের খবর প্রকাশ হলে ঠাকুরের অনুসারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক নিখিল মজুমদার বলেন, ভবন দুটি সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটনেরও সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবার সকালে পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক শাফকাত ওয়াহিদ এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবির ভবন দুটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা সৎসঙ্গের প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনেন।
মো. রাশেদ কবির বলেন, হাসপাতালের আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ১৩টি পুরনো ও পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা ছিল। ভবন দুটি সেই তালিকায় থাকলেও আপাতত সেগুলোর নিলাম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হবে।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য নিলাম স্থগিত করায় জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ভবন দুটিকে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানান।