Published : 30 Jul 2025, 03:59 PM
প্রায় প্রতিবছরই জাগ দেওয়ার পনির সংকটে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় পাটের রাজধানী খ্যাত ফরিদপুরের চাষিদের। তবে এবার বৃষ্টির কারণে হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৮৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। ফলন ভালো হওয়ায় দুই লক্ষাধিক টন পাট উৎপাদন হওয়ার আশা করা হচ্ছে, যার বাজার মূল্য দুই হাজার কোটি টাকার বেশি।
তবে পাটের আবাদে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় কতটুকু লাভের মুখ দেখবেন তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনি চাষিদের।
ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ফরিদপুরের পাললিক বেলে দোআঁশ ও এঁটেল দোআঁশ মাটি পাট চাষের জন্য বেশ উপযোগী। পাশাপাশি পাট চাষের জন্য উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়া প্রয়োজন। জেলায় রয়েছে পদ্মা- আড়িয়াল খাঁ-মধুমতির মতো নদী।

“ফরিদপুরের জলবায়ু এই বৈশিষ্ট্যগুলির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলেই পাট উৎপাদনে এ জেলা দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে। সেজন্য এ জেলাকে পাটের রাজধানী বলা হয়। ”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে- নয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ব্যতীত বাকি আটটি উপজেলাতেই ব্যাপক হারে পাট চাষ করা হয়। জেলায় পাটের আবাদ হয় মোট আবাদি জমির ৭৫ শতাংশ বেশি, আর এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট আছেন প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক কৃষক-কৃষাণি।”
ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্রই এখন যেন পাটের কাজে ব্যস্ত চাষীরা। কেউ ক্ষেত থেকে পাট কাটছেন, কেউ আঁটি বেঁধে মাথায় করে জাগ দেয়ার জন্য পানির কাছে নিচ্ছেন। পানিতে জাগ দিচ্ছেন।

কেউ আবার জাগ দেওয়া পাট তুলে আঁশ ছাড়িয়ে ভালোভাবে পানিতে ধুয়ে শুকানোর কাজ করছে। এমন চিত্রের দেখা মেলে জেলার সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারিসহ প্রায় সব কয়টি উপজেলাতেই।
কথা হয় বোয়ালমারীর মনিরুজ্জামান, আশুতোষ, দেলোয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েক জন চাষির সঙ্গে।
তারা জানান, এবার তুলনামূলক নিচু জমিতে পাটের ফলন ভালো হয়নি, তবে উচু জমির চিত্রটা ভিন্ন। গত কয়েক বছরে তুলনায় এবার পাট কাটার সময় ভালো বৃষ্টিপাত হয়েছে, এ কারণে জাগ দেওয়ার পানি নিয়ে চিন্তা নেই, ভালো রংও আসবে পাটে।

তবে পাট আবাদে চাষীদের ব্যয়ও বেড়েছে অনেক, বপনের শুরুর দিকেই বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চাষীদের সেচ নির্ভর হতে হয়েছে, এখানে গুণতে হয়েছে অতিরিক্ত অর্থ।
তাই ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে তারা বলেন, এ মৌসুমে একমণ পাট বাজারে নেওয়া পর্যন্ত খরচ হচ্ছে চার হাজারের মতো। এখন আপনারাই বলুন কত টাকা বিক্রয় করতে পারলে চাষীরা বেঁচে থাকতে পারবে।
এই পাটচাষিদের দাবি মণ প্রতি বিক্রয় মূল্য পাঁচ হাজারের কম হলে গুণতে হবে লোকসান।
চাষীদের এবার পাটের ভালো দাম পাওয়ার আশার কথা জানিয়ে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহাদুজ্জামান বলছেন, “পাট পচনের সময় অতিবৃষ্টিপাত হচ্ছে, এ জন্য পাটের কালারটি ভালো হবে, এক্ষেত্রে বাজার দরও সন্তোষজনক হবে বলে মনে করি।”