Published : 21 Dec 2025, 08:20 PM
সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় সদস্যের মধ্যে রাজবাড়ীর শামীম রেজাকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
রোববার পৌনে ৪টার দিকে কালুখালি উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
নিহত শামীম রেজা কালুখালি উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গী গ্রামের আলমগীর ফকিরের ছেলে।

এদিন দুপুর ২টায় ঢাকা থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে শামীমের লাশ নেওয়া হয় রাজবাড়ীর কালুখালীর মিনি স্টেডিয়ামে। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নেওয়া হয় গ্রামের বাড়ি হোগলাডাঙ্গিতে। ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বাবা-মা, ভাই-বোনসহ স্বজনেরা।
এ সময় স্বজন ও এলাকাবাসির কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে চারপাশ। জানাজা শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শামীমকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। পরে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। শেষে কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন সেনা সদস্যরা।

শামীমের স্বজন জসিম উদ্দিন বলেন, তিন ভাই বোনের মধ্যে শামীম রেজা ছিলেন সবার বড়। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন শামীম। চলতি বছরের ৭ নভেম্বর তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে সুদানে যান।
সুদানের আবেই এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ১৩ ডিসেম্বর বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি নিহত হন; তাদের মধ্যে শামীমও ছিলেন।
শামীমের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই পরিবারে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র উপার্জক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা বৃদ্ধ বাবা-মা। কারো সান্ত্বানাতেও থামছে না তাদের কান্না।
শামীমের ছোট ভাই সোহান ফকির বলেন, “ভাইকে হারিয়েছি। ভাই যেহেতু নাই, আমাদের কোনো চাওয়া নাই সরকারের কাছে। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা সেটাই মেনে নেবে। এজন্য আমাদের কিছু বলার নাই।”

কালুখালি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামস সাদাত মাহমুদ উল্লাহ বলেন, “শহীদ বীর সেনা শামীমের মৃত্যুতে সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। সেইসঙ্গে তার পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শামীমের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগীতায় আশ্বাস দেন তিনি।
সুদানে নিহত শান্তিরক্ষী শামীমের বাবার আহাজারি, 'আমার মুনি রে আনে দাও'