Published : 30 Jul 2025, 05:44 PM
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রামের পাঁচ হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় আছেন।
এ ছাড়া তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে তা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার খবর দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো।
বুধবার বেলা ৩টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্ট পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার।
পাউবো জানায়, সকাল থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি আরও কমতে শুরু করে। তবে এতেও স্বস্তি ফেরেনি নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে অতিরিক্ত পানির তোড়ে হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী এলাকায় একটি কাঁচা রাস্তা ধসে যাওয়ার পাশাপাশি একটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। ধুবনী এলাকায় একটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সকালে পানি কিছুটা কমেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা পানি স্তর স্থিতিশীল থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে পানি কমবে।
হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, গড্ডিমারী; কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী; আদিতমারীর মহিষখোচা এবং সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ ও গোকুণ্ডা ইউনিয়নের গ্রামগুলোকে বন্যাকবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে।
তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও মাছের ঘের। অনেক এলাকায় ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

চর সিন্দুর্নার কৃষক হজরত আলী বলেন, “প্রতি বছরই বন্যায় আমাদের ক্ষতি হয়। ফসলহানির পাশাপাশি বাড়িঘরে পানি ওঠে। আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।”
আদিতমারীর গোবরধন গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, উজানের পানি এখনও আসছে। অনেকের বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগের শেষ নেই। বড় বন্যার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম বলেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে পানি বাড়তে থাকে। আমার ইউনিয়নের দেড় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সড়ক ধসে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকা।”
পানিবন্দি মানুষের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার।
তিনি বলেন, “পানিবন্দিদের জন্য চাল, শুকনো খাবারসহ পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।”