১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

৭ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা: তিনবার বাদীর নারাজি, বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক রোববার এ আদেশ দেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Oct 2026, 06:56 PM

Updated : 11 Oct 2026, 06:55 PM

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আসামিকে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় এবার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী নারাজি দিলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক রোববার এ আদেশ দেন বলে বাদীর আইনজীবী আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী জানান।

মামলার আসামি পুলিশ সদস্যরা হলেন- রায়পুর থানার তৎকালীন এসআই মো. আবু হানিফ, নুরুল ইসলাম, মো. আবু হানিফ, এএসআই সফিক মিয়া, সাখাওয়াত হোসেন, কনস্টেবল আতিক উল্যা ও ইউসুফ ঢালি।

মামলায় বলা হয়, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের বর্ডার বাজার রায়পুর-চাঁদপুর সড়ক থেকে আসামিরা আব্দুর রহিম রনিকে আটক করে। তিনি চরপাতা ইউনিয়নের পূর্ব চরপাড়া গ্রামের মো. শহিদুল্লাহর ছেলে। তখন তার সঙ্গে গরু বিক্রির ৯০ হাজার টাকা ছিল। ওই টাকা আসামিরা নিয়ে গেছেন।

পরে তাকে নিয়ে মারধর করে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়। আটকের খবর পেয়ে রনির স্ত্রী রায়পুর থানায় বারবার গেলেও স্বামীর সন্ধান পাননি।

একপর্যায়ে এসআই হানিফ রনিকে ছাড়তে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। এতো টাকা নেই জানালে রনিকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

পরে পুলিশ বাদী হয়ে রনির বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করে। সেই মামলায় রনি কারাগারে রয়েছেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রিনা আক্তার বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর ৭ পুলিশের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে আদালতের নির্দেশে জেলা পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি তিন দফায় প্রতিবেদন জমা দেয়। কিন্তু স্বজনপ্রীতি ও গাফিলতির অভিযোগ তুলে প্রতিবারই নারাজি দেন বাদী।

বাদীর আইনজীবী আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ না করে ও বাদীর সাক্ষীদের জবানবন্দি উপেক্ষা করে প্রভাবিত হয়ে রিপোর্ট দিয়েছিল। বাদীর নারাজি মঞ্জুর করে আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।