সিফাত হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ
আগামী ১০ নভেম্বর মধ্যে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় গুলিতে সিফাত হোসেন (২৬) নামে এক যুবক নিহতের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মঙ্গলবার প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগামী ১০ নভেম্বর মধ্যে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সিফাতের বাবা কামাল হাওলাদার ২০২৪ সালের ১৫ অগাস্ট শেখ হাসিনাসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি মিরপুর মডেল থানা পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলায় আরও যাদের আসামি করা হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক তিন সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার, মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও সালাউদ্দিন মাহমুদ জাহিদ, পুলিশের সাবেক আইজি আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, জিয়াউল হক জিয়া, মেহেদী হাসান।
মামলার তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে গত ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মিরপুর মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান। তবে জিয়াউল হক জিয়া, মেহেদী হাসানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় আপত্তি তোলেন সিফাতের বাবা কামাল হাওলাদার।
গত ১ সেপ্টেম্বর পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনে নারাজি দেন তিনি। সেখানে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা মামলার বিষয়বস্তু আমলে না নিয়ে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করে আসামিদের দ্বারা পক্ষাশ্রিত হয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত শুনানির দিন রাখেন ৫ অক্টোবর। এদিন শুনানি নিয়ে আদালত পিবিআইকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।
মামলায় বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই মিরপুর-১০ সেনপাড়া এম এস পাওয়ারের সামনে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। এ সময় সিফাত রাস্তা পার হয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।
