Published : 14 May 2026, 01:06 PM
পাবনায় চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিন থেকে চারটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে আন্তঃনগর ‘মধুমতি এক্সপ্রেস’। চারটি বগি রেখেই প্রায় ৪০০ গজ সামনে এগিয়ে যায় ট্রেনটি।
বৃহস্পতিবার সকালে আজিমনগর ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আনোয়ার হোসেন।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার আজিমনগর স্টেশন অতিক্রম করে ঈশ্বরদী অভিমুখে আসছিল।
পথে সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে আজিমনগর স্টেশন এলাকায় এই ‘ইঞ্জিন পাটিং’-এর ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের বগির সংযোগস্থল বা ‘হুক’ খুলে গেলে পেছনের চারটি বগি লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে পড়ে।
এদিকে বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে চালক বুঝতে না পারায় ইঞ্জিনটি প্রায় ৪০০ গজ সামনে এগিয়ে যায়। প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টার পর সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে ট্রেনটি পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

ট্রেনের যাত্রী ইয়ানা আফরোজ শ্রাবণী বলেন, “আজিমনগর স্টেশন পার হওয়ার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ করে আমাদের বগিগুলো থেমে যায়। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি ইঞ্জিন আমাদের রেখে সামনে চলে গেছে। ওই সময় যাত্রীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।”
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় চা বিক্রেতা আমিরুল ইসলাম বলেন, “ইঞ্জিনটি বগিগুলো ফেলে অনেক দূর চলে গিয়েছিল। প্রায় আধা ঘণ্টা পর চালক ইঞ্জিনটি পুশ ব্যাক (পিছনে নিয়ে আসা) করে বগিগুলোর সাথে পুনরায় সংযুক্ত করেন।”
ডিআরএম আনোয়ার হোসেন বলেন, “চালক দ্রুত বিষয়টি টের পাওয়ায় বড় কোনো বিপদ ঘটেনি। রেলকর্মীরা দ্রুততার সাথে বগিগুলো পুনরায় সংযুক্ত করেছেন। এই সাময়িক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমরা দুঃখিত।”
বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।