Published : 01 Dec 2025, 06:24 PM
গোপালগঞ্জে শিক্ষকদের পদসোপান আন্দোলনের কারণে দুই বিদ্যালয়ে এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষা হয়নি।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং জি টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল সোমবার। কিন্তু সেই পরীক্ষা হয়নি।
শিক্ষকদের নবম গ্রেডভিত্তিক পদসোপান (ক্যাডার) বাস্তবায়নের দাবিতে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করেন।
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিস খানম বলেন, “সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদসোপান নিয়ে দীর্ঘদিনের অধিকার ও বঞ্চনার পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ঘোষিত চার দফা দাবির যৌথ কর্মসূচির কারণে আজ বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। আমরা এজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করি, সরকার আমাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শরীফ মোরেজ আলী বলেন, “শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদসোপান বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার মান ও বিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রভাবিত হতে পারে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হোক।”
পরীক্ষার্থী মেহজাবিন আক্তার নিঝুম বলেন, “আজ আমাদের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। আমরা সবাই খুব চিন্তিত। আগামীকাল (মঙ্গলবার) পরীক্ষা হবে কিনা তা জানি না।”
অভিভাবক মিতা খানম বলেন, “শিক্ষার্থীরা যথাযথ সময়ে পরীক্ষা দেওয়ার অধিকার হারাচ্ছে। আশা করি, শিক্ষকদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।”
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এবং জিটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এই পরিস্থিতির প্রভাবে পরীক্ষা দিতে পারেননি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বার্ষিক পরীক্ষা চলমান রয়েছে। দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে ২০ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা, ২৭ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনি পরীক্ষা, এবং ২৮-৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা যথাযথ সময়সূচিতে নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পরীক্ষার সময় কোনো ধরনের শৈথিল্য বা অনিয়ম ধরা পড়লে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।