Published : 24 Jul 2026, 10:44 PM
দীর্ঘ ৬২ বছর পর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে গান গাইলেন দেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা।
মঞ্চে সেই অনুভূতি প্রকাশ করে রসিকতার ছলে তিনি বললেন, “অবশেষে আমাকে ডেকেছেন তাহলে। শেষ হওয়ার আগেই দেখে নিয়েছেন, ভালো হয়েছে।”
শুক্রবার রুনা লায়লাকে নিয়ে ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’ শিরোনামে একক সংগীত ও সম্মাননা অনুষ্ঠান আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি।
গান শুরুর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমিকে ধন্যবাদ দিয়ে রুনা লায়লা বলেন, “যারা আমাদের এই স্বাধীন বাংলা দিয়েছেন, যারা প্রাণ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, যাদের কারণে আমরা বাংলাদেশকে পেয়েছি এবং যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি প্রথম গানটি শুরু করছি।”

এরপর তিনি পরিবেশন করেন ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছ প্রাণ, ভুলিনি আমরা’ গানটি। এরপর ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’ ও ‘যখন থামবে কোলাহল’ গান।
সংগীত অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন অভিনেতা আফজাল হোসেন। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে গল্প ও আলাপচারিতায় নানা স্মৃতি স্মরণ করেন রুনা লায়লা।
অনুষ্ঠান মঞ্চে তিনি বলেন, ৭৪ বছর বয়সেও এখনো তিনি সরাসরি গান গাইতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কনসার্ট বা অনুষ্ঠানে রেকর্ড করা গানের ওপর ঠোঁট মেলানো (লিপ সিং) তার পছন্দ করেন না।
নিজের প্রথম চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার স্মৃতি স্মরণ করে রুনা লায়লা বলেন, “তখন আমি পাকিস্তানে ছিলাম। সিনেমার গানের রেকর্ডিং হত লাহোরে, আমি থাকতাম করাচিতে। রেকর্ডিং স্টুডিওতে পরিচালক নজরুল ইসলাম ও সুরকার সুবল দাস এসে বাংলা গান গাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাই। গানটি ছিল ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’।”
এ কথা বলার পরই গানটি গেয়ে শোনান রুনা লায়লা। সেইসঙ্গে ‘বন্ধু তিনদিন তোর বাড়িত গেলাম’, নজরুল গীতি ‘ভুলিতে পারিনি’, ‘অনেক বৃষ্টি ঝরে’, ‘সাধের লাউ বানাইল মোরে বৈরাগী’- এ গানগুলোও গেয়ে শোনান তিনি।

‘মাস্ত কালান্দার’ গান দিয়ে গানের পর্ব শেষ করেন এ শিল্পী।
গানের আগে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে একটি ভিডিও বার্তায় রুনা লায়লাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বাপ্পা মজুমদার, ফোয়াদ নাসের, সাদেক আলী, অভিনেতা আলমগীর, ইমরান মাহমুদুল, আঁখি আলমগীর ও ঝিলিক। আরেকটি ভিডিও বার্তায় রুনা লায়লা নিজেও তুলে ধরেন তার দীর্ঘ সংগীত জীবনের গল্প।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “রুনা লায়লা সুরকে করেছেন সাধনা, আর সাধনাকে করেছেন জীবন। সৃষ্টি যখন সাধনায় দীপ্যমান হয়, তখন সেই শিল্পী আর কেবল ব্যক্তি থাকেন না, হয়ে ওঠেন এক অনন্ত সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও জীবন্ত প্রেরণা।”
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সচিব কানিজ মওলা, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
আলোচনা পর্ব শেষে রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।