১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ছে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস, মারাত্মক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত বহু

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৯ টি রাজ্যে অন্ত্রের রোগ সাইক্লোস্পোরিয়াসিস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ছে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস, মারাত্মক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত বহু
যুক্তরাষ্ট্রের  রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রর (সিডিসি) সাইনবোর্ড। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Jul 2026, 10:51 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:43 PM

যুক্তরাষ্ট্রে ‘সাইক্লোস্পোরা’ নামক এক অণুবীক্ষণিক পরজীবীরজনিত মারাত্মক ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

দেশটির রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৯ টি রাজ্যে অন্ত্রের রোগ সাইক্লোস্পোরিয়াসিস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যেই রোগী শনাক্ত হওয়া ইন্ডিয়ানা, কেনটাকি, মিশিগান, ওহাইও এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার পাশাপাশি নতুন করে আরও চারটি রাজ্য- ইলিনয়, কানসাস, ওকলাহোমা এবং পেনসিলভেইনিয়া এই প্রাদুর্ভাবের তালিকায় যোগ হয়েছে।

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ প্রথম বাড়তি আরও চার রাজ্যে এই রোগ ছড়ানোর খবর জানায়।

মেক্সিকো থেকে টেলর ফার্মসের আমদানি করা আইসবার্গ লেটুসে পরজীবী দূষণের কারণে এই রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ‍সিডিসি। কেন্দ্রটি ‘সাইক্লোস্পোরা’ ৯ রাজ্যে আক্রান্ত ১ হাজার ৯৪৭ জনের হিসাব দিয়েছে, যারা টাকো বেলও খেয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে,আইসবার্গ লেটুস থেকে রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়ানো শুরু হয় ২২ জুন থেকে এবং ২০ জুলাই পর্যন্ত তা ক্রমেই আরও ছড়িয়েছে। 

৯টি রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ সম্মিলিতভাবে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি সাইক্লোস্পোরিয়াসিস আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যার বেশিরভাগই ঘটেছে মিশিগানে। তবে সবাই যে লেটুস থেকেই আক্রান্ত হয়েছে তা নয়, বরং অন্য কোনও কিছু থেকেও আক্রান্ত হতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন মিশিগানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

সাইক্লোস্পোরা কায়েটানেনসিস নামে এক পরজীবী থেকে রোগ সংক্রমণ ঘটে। সাইক্লোস্পোরা পরজীবী যখন মানুষের অন্ত্রে প্রবেশ করে, তখন সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগ হয়। এই রোগ ছোঁয়াচে নয়, তবে দূষিত পানি, খাবার এবং আক্রান্তের মল বা মূত্র থেকে রোগ ছড়াতে পারে।

এই পরজীবী দূষিত, পচা-বাসি খাবার, মলমূত্রে জন্মায়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, কেবল রান্না খাবার নয়, কাঁচা শাকসব্জি, ফলমূল ও তরল খাবার থেকে ছড়াতে পারে এই পরজীবী। বিশেষ করে সালাদে যে সব কাঁচা সব্জি ব্যবহার করা হয়, যেমন শসা, টম্যাটো, লেটুসপাতা, ধনেপাতা- এগুলো থেকে ছড়াতে পারে এটি। আবার বেরি জাতীয় ফল থেকেও ছড়ায় সাইক্লোস্পোরা।

সাইক্লোস্পোরিয়াসিস হলে রোগীর মারাত্মক ডায়রিয়া হয়, পেটে যন্ত্রণা হয়। কিছু খেলেই বমি হয়ে যায়। সঙ্গে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশির খিঁচুনি শুরু হয়। সংক্রমণ বেশি ঘটলে রোগীর পেশি অসাড়তাও দেখা দিতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং মেক্সিকোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যৌথ তদন্ত করে দেখছে, কীভাবে আইসবার্গ লেটুস দূষিত হল।

‘টেলর ফার্মস’ তাদের প্রক্রিয়াজাত করা কুচানো লেটুস বাজার থেকে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই লেটুসগুলো ২৭টি রাজ্যের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, ফুড সার্ভিস ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল।