Published : 10 Mar 2026, 10:35 PM
ঈদযাত্রায় ভোগান্তি এড়াতে মহাসড়কগুলোর দিকে প্রশাসনের নজর থাকলেও অনেক সময় আঞ্চলিক মহাসড়কগুলো সবার দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসব সড়কে যানজটে আটকে থাকলেও দেখার কেউ থাকে না।
দুই লেনের কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ এবার ঈদযাত্রায় বড় ধরনের যানজটের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কুমিল্লার ময়নামতি এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধরখার পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৫৪ কিলোমিটার। এই অংশে কংশনগর বাজার ও দেবিদ্বার বাজারের মত ব্যস্ত এলাকায় এক লেন বন্ধ রেখে চলছে সড়ক সংস্কার কাজ।
এক লেনে যানবাহন চলাচল করায় সাধারণ দিনগুলোতেই যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। ঈদে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লে ভোগান্তি আরও তীব্র হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
যানজটের অন্যতম কারণ হলো রাস্তার ওপর বসানো অটোরিকশার অস্থায়ী স্ট্যান্ড। এখানে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে গাড়ি চলে ধীর গতিতে।

কংশনগর বাজার এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাশেম বলছিলেন, “এই বাজারটাতে কয়েক মাস ধরে রাস্তার কাজ চলছে। দিনে রাতে যানজট আর গাড়ির জটলা লেগেই থাকে। অনেক সময় উল্টা পথে গাড়ি এসে যানজট বাঁধায়।”
“যদি দুজন পুলিশ দুই মাথায় থাকত তাহলে আর উল্টা পথে গাড়ি আসতে পারত না। ঈদের যে কয়দিন রাস্তায় চাপ থাকবে ওই কয়দিন ভোগান্তি হবে, নিশ্চিত।”

যদিও সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলছেন, “ঈদের ছুটির আগেই সংস্কার কাজ বন্ধ করা হবে।”
আর কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠ পর্যায়ে অতিরিক্ত হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই আঞ্চলিক মহাসড়কের কংশনগর, দেবিদ্বার ও কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এসব স্থানে যানজটের প্রধান কারণ সড়কের ওপর অস্থায়ী অটোরিকশার স্ট্যান্ড, রাস্তার ওপরই যাত্রী ওঠানামা, হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতার অভাব, অবৈধ স্থাপনা এবং বাজারের দখল।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা হয়ে সিলেট যাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সরাসরি পথ হল কুমিল্লা‑সিলেট মহাসড়ক। যার কারণে এই সড়কেও ঈদে বাড়তি যানবাহনের চাপ দেখা যায়।

এই আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫৪ কিলোমিটারে জলবহুল অন্তত ১০টি বাজার রয়েছে; তার মধ্যে দেবিদ্বার ও কংশনগর বাজারের ওপরের রাস্তায় চলছে সড়ক সংস্কারের কাজ। যে কারণে এই বাজারগুলোতে প্রতিদিনই দিন-রাতে সৃষ্টি হয় যানজট।
এ ছাড়া ময়নামতি, জাফরগঞ্জ বাজার ও কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় যানজটের ধকল থাকে প্রতিদিনই। ঈদের সময় যানবাহনের চাপ বাড়লে এসব জায়গায় থেমে থাকা যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনের সারি দীর্ঘ হয় মাইলের পর মাইল।
ঈদযাত্রায় সংস্কার কাজ ভোগান্তির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, “কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের যে অংশগুলো মেরামত কাজ চলছে সেগুলো ঈদের ছুটির আগেই বন্ধ করে দেওয়া হবে। ঈদের পর আবার এই কাজ শুরু হবে।”

সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী সড়কের কভার্ডভ্যান চালক আমিনুল ইসলাম বলেন, “রাস্তা এত খারাপ, তারপর বাজারে বাজারে অটোরিকশার স্ট্যান্ড রয়েছে। কোথাও কোনো পুলিশ নাই।
“এই সড়কে প্রতি বাজারে যদি গড়ে ২০ মিনিট দাঁড়াতে হয় তাহলেও সাধারণ দিনে অন্তত দুই ঘণ্টা দেরি হয়। ঈদের সময় এই বাজারগুলোতে হাইওয়ে পুলিশ অবশ্যই থাকতে হবে।”
এ প্রসঙ্গে মিরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আখতারুজ্জামান বলেন, “কোম্পানিগঞ্জ, দেবিদ্বার, জাফরগঞ্জ এসব বড় বড় বাজার। এ জায়গাগুলোতে জটলা থাকেই।
“তারপরও ভোগান্তি নিরসনে আমরা চেষ্টা করি। ময়নামতি থেকে কংশনগর ময়নামতি হাইওয়ে থানার দায়িত্ব আর দেবিদ্বার এলাকায় থানা পুলিশ কাজ করে।”
হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলছেন, “আমরা রেঞ্জ থেকে অতিরিক্ত ২০০ পুলিশ সদস্য পেয়েছি। ঈদের আগে তারা মাঠে থাকবে। যানজট নিরসন ও নিরাপত্তায় তারা কাজ করবে।”