Published : 16 Sep 2025, 06:24 PM
কুমিল্লা নগরীর বাসিন্দা তানজীদা আক্তার রিয়ার বাসায় দুটি পাখা, দুটি লাইট, একটি ফ্রিজ আর একটি টেলিভিশন চলে। অগাস্ট মাসে বাসায় বিদ্যুৎ বিল আসে ১৪০০ টাকা। কিন্তু সেপ্টেম্বরে বিল এসে এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
রোববার এমন ‘ভূতূড়ে’ বিল হাতে পেয়ে অবাক হয়ে যান রিয়া। সঙ্গে সঙ্গে তার শ্বশুর পিডিবির কুমিল্লা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ শাসনগাছা কার্যালয়ে যান।
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, অন্য একজনের বিল তার কাছে চলে গেছে। বিলটি সংশোধন করে দেওয়া হবে।
নগরীর দুই নম্বর ওয়ার্ডের ছোটরা কলোনির পশ্চিম গেটের এলাচি বাড়ির বাসিন্দা রিয়া। তিনি বলছিলেন, “সাড়ে চার বছর আগে তাদের দুই কক্ষের বাসাটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তখন বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য লিখিত আবেদন করেন। তখন তারা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেন। তবে মিটারের জন্য প্রতি মাসে ৪০-৪৫ টাকা করে বিল দিতে হয়।
তিনি বলেন, “চলতি বছর বাড়ি পুনর্নির্মাণ হয়। তখন আবার সংযোগের জন্য শাসনগাছা বিদ্যুৎ কার্যালয়কে জানান। বিদ্যুৎ কার্যালয় থেকে প্রিপেইড মিটার নেওয়ার কথা বলা হয়। তাতে আমরা আপত্তি করি।
“অগাস্ট মাসে ১৪০০ টাকার বিল আসে। রোববার এক লাখ ৬৭ হাজার ৬৮৪ টাকার একটি বিল দেওয়া হয়।”

বিল নিয়ে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে যান রিয়ার শ্বশুর মনজুর হোসেন। তখন বিদ্যুৎ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা একে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন রিয়া।
কুমিল্লার সাংবাদিক ও কলামনিস্ট মাসুক আলতাফ চৌধুরী বলেন, “প্রিপেইড মিটারের যুগেও ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের ভোগান্তি থামছে না গ্রাহকের। এ ধরনের ভূতুড়ে বিল অনিয়মের প্রমাণ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আস্থা হারাবে সাধারণ গ্রাহক।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিডিবি কুমিল্লা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, “যে মিটারের বিপরীতে এই বিদ্যুৎ বিল তৈরি হয়েছে, ওই বাড়ির মালিক অফিসে এসে যোগাযোগ করেননি। তারপরেও আমাদের পক্ষ থেকে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছি।
“এরপর পুরনো মিটারটি যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, অন্য একজন গ্রাহকের বিল ভুলবশত ওই গ্রাহকের নামে চলে যায়। বিষয়টি আমরা তদন্তের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করব। দুই-তিনদিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।”