বরিশাল হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর পর ক্ষোভে চিকিৎসকের কক্ষ ভাঙচুর

রোগীর ছেলেকে আটকের পর পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে।

বরিশাল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Jan 2023, 11:07 AM
Updated : 22 Jan 2023, 11:07 AM

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের কক্ষে হামলা ও ভাংচুর করেছে স্বজন।

রোববার সকাল ১০টার দিকে নতুন ভবনের চারতলায় মেডিসিন ইউনিট-২ এর চিকিৎসকদের কক্ষে এ ভাঙচুর করা হয় বলে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. মাইনুল জানান।

তিনি দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকালে মেডিসিন ইউনিট-২ এ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের কলসগ্রামের শহিদুল ইসলাম (৫০) মারা যান। পরে রোগীর ছেলে জুম্মন চিকিৎসকের কক্ষে টেবিলের গ্লাস, চেয়ার ও কাপ-প্লেট ভাঙচুর করে।

“খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে জুম্মনকে আটক করে। পরে বাবার মৃত্যুর কারণে মানবিক দিক বিবেচনায় এবং চিকিৎসকের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

জুম্মনের মামা ফারুক হাওলাদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার ভগ্নিপতি শহীদুল শনিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। সকাল ৯টায় তাকে হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-২ এ ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর শহীদুলের বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়।

“তখন তাকে দ্রুত অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অক্সিজেন দিতে দেরি হওয়ায় শহীদুল মারা যান। এ সময় বড় চিকিৎসক এসে কর্তব্যরত নার্সদের বকাবকি করেন।”

ফারুক হাওলাদার আরও বলেন, “বাবার মৃত্যুর পর ভাগ্নে জুম্মন ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসকের কক্ষে ভাঙচুর করেছে। পুলিশ তাকে আটক করে কিছুক্ষণ পরে ছেড়েও দিয়েছে।”

মেডিসিন ইউনিটের রেজিস্টার ডা. সোলায়মান বলেন, “এখানে প্রতিদিন রোগীর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা নিজেদের সাধ্যমত চেষ্টা করেন। তবু রোগীর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হন। তাই এ ওয়ার্ডের নিরাপত্তা বাড়ানোসহ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি।” 

হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এখানে চিকিৎসকের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক। চিকিৎসক তিনজন হলে রোগী ৪০০ থাকে। তাই চিকিৎসকরা রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের অবেহলায় রোগীর মৃত্যু হয় সেটা সঠিক নয়, চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেন।”

চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপনেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক