৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে গুলিতে জেলে নিহত

হিজলা থানার ওসি মো. সোলায়মান বলেন, নিহত জেলের ঘাড়ে ও বুকে গুলির দাগ রয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Oct 2026, 11:48 PM

Updated : 29 Oct 2026, 11:48 PM

বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারে যাওয়া এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

নিহত আকতার হাওলাদার (৪০) উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর মেমানিয়া গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে।

বৃহস্পতিবার ভোর রাতে মেঘনা নদীর হিজলা উপজেলার ওরাকুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হিজলা থানার ওসি মো. সোলায়মান বলেন, “নিহত জেলের ঘাড়ে ও বুকে গুলির দাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটা ছড়রা গুলি ছিল। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, জিডিমূলে লাশের ময়নাতদন্ত করার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, যুবদল নেতা ও পরিবারের সদস্যরা অভিযানের সময় আকতারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবি করলেও চাঁদপুর নৌ পুলিশ ও হিজলা মৎস্য কর্মকর্তা কোনো ধরনের অভিযান পরিচালনার কথা অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আফসার উদ্দিন বলেন, “আকতারসহ ছয়-সাত জেলে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে মনে করে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে যান। ভোর রাতের দিকে চাঁদপুর নৌ পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় গুলিতে নৌকায় থাকা আকতার ও আরেকজন গুলিবিদ্ধ হন।

“গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আকতার মারা যান। পরে মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে স্বজনরা। সেখান থেকে হিজলা থানা পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।”

হিজলা উপজেলা যুবদলের সদস্য হযরত আলী বলেন, “সকাল ৬টার দিকে এক নৌকার মাঝি ফোন করে জানান, চাঁদপুর নৌ পুলিশ দুটি স্পিডবোট নিয়ে এসে আকতার হাওলাদার ও আব্দুল হককে গুলি করেছে।”

তিনি বলেন, খবর পেয়ে স্পিডবোট নিয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আকতার মারা গেছেন।

যুবদল নেতা বলেন, “পরে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে হিজলা থানা ও নৌ পুলিশের দুজন এসে লাশ ময়নাতদন্ত করতে পাঠিয়েছেন।”

হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ইয়াসিনুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের কোনো দল অভিযান করেনি।

হিজলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমাদের স্পিডবোট হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে আমরা ট্রলার নিয়ে অভিযান করছি। কিন্তু যেখানে গুলির ঘটনা ঘটেছে, সেখানে অভিযান হয়নি।”

চাঁদপুর সদর নৌ পুলিশের ওসি আজমগীর হোসেন বলেন, “আমরা কোনো অভিযানে যাইনি।”