গৃহবধূকে পাঁচ টুকরো করে হত্যা: ছেলেসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

২০২০ সালের ৭ অক্টোবর বিকালে সুবর্ণচর উপজেলার জাহাজমারা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে নুর জাহানের টুকরো করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নোয়াখালী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Jan 2023, 07:38 AM
Updated : 24 Jan 2023, 07:38 AM

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় নুর জাহান নামের এক নারীকে পাঁচ টুকরো করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার ছেলেসহ সাত আসামিকে প্রাণদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ নিলুফার সুলতানা তিন বছর আগের এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বলে আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গুলজার আহমেদ জুয়েল জানান।

দণ্ডিতরা হলেন- নিহতের ছেলে হুমায়ুন কবির (২৯), মো. নিরব (২৬), কসাই নুর ইসলাম (৩২), কালাম (৩০), সুমন (৩৩), হামিদ (২৮), ইসমাইল (৩০)।

রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। সাজার পাশাপাশি বিচারক প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন।

মামলার বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর বিকালে সুবর্ণচর উপজেলার জাহাজমারা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে গৃহবধূ নুর জাহানের (৫৮) মাথাসহ মরদেহের দুই টুকরো এবং পরদিন একই স্থান থেকে আরও তিন টুকরো উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় প্রথমে নিহতের ছেলে হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে মো. নীরব ও কসাই নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা মামলার বাদী নিজেই জড়িত বলে তথ্য বেরিয়ে আসে। এরপর পুলিশ হুমায়ুনকে প্রধান আসামি করে আরেকটি মামলা করে।

মামলা বিবরণে বলা হয়, নুর জাহানের প্রথম সংসারের ছেলে বেলাল হোসেন ঘটনার বছর খানেক আগে মারা যান। তার ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে দ্বিতীয় সংসারের ছেলে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে নুর জাহানের বনিবনা হচ্ছিল না। এর জেরেই মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হুমায়ুন। আর সেই হত্যাকাণ্ডে বন্ধু, প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাকে সহায়তা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ অক্টোবর রাতে নুর জাহানকে প্রথমে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ পাঁচ টুকরো করে প্রতিবেশী ও পাওনাদারদের ধানক্ষেতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে আসামিদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।

একইসঙ্গে আটকদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাংস কাটার ধারালো অস্ত্র, বঁটি, একটি কোদাল ও নারীর পরনে থাকা শাড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক