০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

খুলনায় দোকানে ঢুকে তাঁতি দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খুলনায় দোকানে ঢুকে তাঁতি দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

খুলনা মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 10:00 PM

Updated : 01 Nov 2026, 10:35 PM

খুলনা মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল লোক।

রোববার সন্ধ্যায় নগরের রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে তার নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায়।

নিহত হুমায়ুন কবির ওই এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। হুমায়ুন কবির রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজ বাসায় বসবাস করতেন। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি ১৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছিলেন।

আড়ংঘাটা থানার ওসি মো. হালিমুর রহমান বলেন, কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা জানতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, খুলনা সিটি করপোরেশনের আগামী নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ভোট করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন হুমায়ুন। সন্ধ্যায় হুমায়ুন নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন।

এ সময় একদল লোক দেশি অস্ত্র, রামদা ও চাপাতি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বুকে আঘাত করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনরা জানান, কিছুদিন আগে মোস্তফার মোড় এলাকার একটি শোরুমে থেকে নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য বাকিতে ফ্রিজ কেনেন হুমায়ুন। ফ্রিজের টাকা পরিশোধ নিয়ে ওই দোকানদারের সঙ্গে তার ঝামেলা চলছিল। এদিন বিকালে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর হুমায়ুনের ওপর হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলকে দায়ী করেছে হুমায়ুনের পরিবার। হাসপাতালে হুমায়ুনের ভাতিজা সৈয়দ দিদারুল আলম বিপ্লব অভিযোগ করে বলেন, “নগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদলের এক নেতার নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে তার চাচাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”

হুমায়ুনকে কারা এবং কি কারণে হত্যা করল, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানতে পারেননি খুলনা মহানগর তাঁতি দলের আহ্বায়ক মো. আবু সাঈদ।

আড়ংঘাটা থানার ওসি হালিমুর রহমান বলেন, “হত্যাকাণ্ডের শিকার সৈয়দ হুমায়ুন কবির এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। ফ্রিজের কিস্তির পাওনা ১০ হাজার টাকা আদায় করাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সুদর্শন কুমার রায় বলেন, বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।