পাথর কোয়ারি খোলার দাবির মধ্যে সিলেটে পর্যটকবাহী গাড়িতে হামলা
এ সময় সড়ক অবরোধকারী অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা, পাইপ ও বাঁশ দেখা গেছে।
পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে কর্মসূচি চলার মধ্যেই সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পর্যটকবাহী কয়েকটি গাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে সাদাপাথরগামী গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে বলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পাথর কোয়ারি চালুর দাবিতে দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গণঅনশন কর্মসূচি পালিত হয়। পরে কর্মসূচিতে থাকা একদল ব্যক্তি সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেন।
এ সময় সড়ক অবরোধকারী অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা, পাইপ ও বাঁশ দেখা গেছে। তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি কোয়ারি চালুর দাবি জানান। এর মধ্যেই হামলার ঘটনা ঘটে।
ভাঙচুরের পর পরই আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে লাইভ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর যাচ্ছিলেন। পথে অতর্কিতভাবে তার প্রাইভেট কারে হামলা চালিয়ে কাঁচ ভাঙচুরের পাশাপাশি পুরো গাড়িটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
গাড়ির ভাঙচুর হওয়া কাঁচ ভেতরে থাকা যাত্রীদের শরীরেও বিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আমিনুল।
তবে পাথর কোয়ারি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক শাব্বীর আহমদ ফয়েজ বলেন, “বহিরাগতরা এই হামলা চালিয়েছে। আমাদের কোম্পানীগঞ্জের ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ হামলাকারীদের আটক করে পুলিশের কাছে দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
ওসি উজায়ের আল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, “কর্মসূচি চলাকালে একটি কালো প্রাইভেট কার ও একটি যাত্রীবাহী গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে দুজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মামলা দিলে মামলা নেওয়া হবে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে এবং আবার যান চলাচল শুরু হয়েছে।”
১৪ জুন জাফলংয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের গাড়িবহর আটকে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ হয়।
দুই উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভের ঘটনায় নয়জনের নাম দিয়ে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এরপর কিছু ক্র্যাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার খুলে নেওয়া হয়।
এরপর পাথর কোয়ারিগুলো ফের ইজারার মাধ্যমে খুলে দেওয়ার দাবিতে ২৪ জুন সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করে সিলেট জেলা পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। তাদের এই দাবির সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতারা।
এ সময় ঐক্য পরিষদের নেতারা ২৮ জুন থেকে সিলেটের সব পাথর কোয়ারি থেকে ৪৮ ঘণ্টা লোড-আনলোডে কর্মবিরতি, ৩০ জুন থেকে সিলেট জেলা সব পণ্য পরিবহনে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি এবং ২ জুলাই থেকে সিলেট জেলায় সব পণ্য পরিবহণ ও গণপরিবহনে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
