Published : 24 Jun 2025, 09:44 PM
পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো ফের ইজারার মাধ্যমে খুলে দেওয়ার দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতারা।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট জেলা পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই দাবিতে মানববন্ধনে এসব রাজনৈতিক দলের নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন।
এ সময় ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতারা, দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের পণ্য পরিবহণ ও গণপরিবহনে কর্মবিরতি পালনের হুমকিও দেন।
মানববন্ধন শেষে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর জিন্দাবাজার হয়ে সিটি পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
১৪ জুন জাফলংয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের গাড়িবহর আটকে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ হয়।
দুই উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভের ঘটনায় নয়জনের নাম দিয়ে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এরপর কিছু ক্র্যাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার খুলে নেওয়া হয়।
মানববন্ধন থেকে সিলেট বিভাগের ইজারা স্থগিত করা পাঁচটি পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবি জানান নেতারা। এ ছাড়া ট্রাক শ্রমিকদের গাড়ি তল্লাশির নামে হয়রানি, ক্র্যাশার মিল মালিকদের হয়রানি বন্ধ, ব্যবসার সুবর্ণ সুযোগ দেওয়া এবং বিদ্যুৎ এর মিটার পুনরায় ফেরত দেয়ার দাবিও করা হয়।
সিলেট জেলা পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল জলিল মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সমন্বয়ক শাব্বীর আহমদ ফয়েজের পরিচালনায় বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সহসভাপতি সাদিকুর রহমান সাদিক, সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজির আহমদ স্বপন, সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ খান সাদেক, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিলেট জেলার আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন সাহান, যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর আজিজ, মহানগর এসসিপির আহ্বায়ক আবু সাদেক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক আহমদ, ইসলামী আন্দোলন সিলেট জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ রুহুল আমীন, সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. দিলু মিয়া, কার্যকরি সভাপতি আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী স্বপন, কোষাধ্যক্ষ জুরহাস হোসেন বাদল, নির্বহী সদস্য আলী আহমদ, দপ্তর সম্পাদক বিলাল হোসেন, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সহসভাপতি আতিকুর রহমান, সহসভাপতি মুজিবুর রহমান, সহসভাপতি সুহেল রানা, নারায়ণ পুরকায়স্থ ফনি, কয়ছর আলী জালালী, মানছুর আলম, জাকির হোসেন তালুকদার, ফখর উদ্দিন, সিলেট জেলা পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আলী বাবুল, জাফলং বল্লাঘাট স্টোন ক্র্যাশার পাথর মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামীম পারভেজ, ইয়াসীন আলী, সিলেট সদর পাথর বালি ও স্টোন ক্র্যাশার মালিক সমবায় সমিতির মো. মন্তাজ আলী, মেম্বার নাজিম উদ্দিন ইমরান, জয়নুল হক, মোজাম্মেল আলী সাদ্দাম, আব্দুল হক, সালুটিকর পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. দিলু মিয়া, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, জাফলং ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ছমেদ মিয়া, শাহপরাণ থানা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. বাবলা আহমদ, ক্র্যাশার মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হেকিম, পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিমুল ইসলাম আঙ্গুর, ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান, মামুন রশিদ, আব্দুস সামাদ, ইলিয়াস আলী, ক্র্যাশার মিল মালিক রফিকুল ইসলাম, বাবুল চেয়ারম্যান, আবু জাফর দোলন, জাফলংয়ের ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ, সামছুল হক, নাসির উদ্দিন, আলাল মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুস সাত্তার।
সভায় সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি নাজির আহমদ স্বপন ও সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. দিলু মিয়া আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এতে বলা হয়, ২৮ জুন থেকে সিলেটের সব পাথর কোয়ারি থেকে ৪৮ ঘণ্টা লোড-আনলোডে কর্মবিরতি, ৩০ জুন থেকে সিলেট জেলা সব পণ্য পরিবহনে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি এবং ২ জুলাই থেকে সিলেট জেলায় সব পণ্য পরিবহণ ও গণপরিবহনে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করা হবে।
মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক শাব্বীর আহমদ ফয়েজ বলেন, “পরিবেশ রক্ষার দোহাই দিয়ে বন্ধ রাখা সিলেটের পাঁচটি পাথরমহাল খুলে দেওয়ার দাবিতে সিলেট জেলা পাথরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নামের সংগঠনটি ১৮ জুন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ জ্বালানি উপদেষ্টা ১৪ জুন জাফলং ঘুরে যান। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সিলেটের পাথরমহাল (কোয়ারি) আর লিজ দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন। এতে আমরা ব্যথিত ও হতাশ হয়েছি।”
তিনি বলেন, “সিলেটের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহে পাথরমহাল ইজারার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলনও হয়েছে। দাবির প্রতি এবারই প্রথম রাজনৈতিক দলের একাত্মতায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।''
কোয়ারি খোলার দাবিতে কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলা সিলেটের বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার সাংবাদিকদের বলেন, “এটা কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়। অথচ রাজনৈতিক নেতারা এখানে অংশ নিয়ে বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে নিয়ে যাচ্ছেন, এটা দুঃখজনক।
“কিছু ক্ষেত্রে পাথর উত্তোলনে আদালতেরও নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করি না। আমরা পরিবেশ রক্ষায় তাদের সহযোগিতা চাই।”