Published : 04 Jun 2026, 11:45 AM
এবারের কোরবানির ঈদ ঘিরে ১৩ দিনে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছেন ৮৩৭ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৩৪ জন ও শিশু রয়েছে ৪৮ জন।
এসব দুর্ঘটনার ৪৮ দশমিক ২৮ শতাংশেই ছিল মোটরসাইকেল। ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ১২৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ।
ঈদযাত্রা (২১ মে থেকে ২ জুন) নিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরির কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় ৩৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩৩ জন, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
এ সময়ে ১৩টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ আহত হয়েছে। সেই সঙ্গে মারা গেছে কোরবানির ২৪টি গরু। আর ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছে।
কোন যানে কত আরোহীর মৃত্যু
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১২৪ জন (৪৪.১২%), বাসযাত্রী ২১ জন (৭.৪৭%), ট্রাক-কভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রলি আরোহী ৩২ জন (১১.৩৮%), প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ১১ জন (৩.৯১%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৪৮ জন (১৭.০৮%) এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র) ৮ জন (২.৮৪%) যাত্রী নিহত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন
দুর্ঘটনাগুলোর ৭৩টি (২৫%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১২৭টি (৪৩.৪৯%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৩৮টি (১৩%) পথচারীকে চাপা বাধাক্কা দেওয়া, ৪২টি (১৪.৩৮%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১২টি (৪.১০%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় কোন যান কতটি
এসব দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৫০৭টি। এর মধ্যে বাস ৭৯টি, ট্রাক ৬১, কভার্ড ভ্যান ১১, পিকআপ ২৪, ট্রলি ৫, লরি ২, ডাম্প ট্রাক ৭, ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ১, গ্যাসবাহী লরি ১, মাইক্রোবাস ৫, কার ১১, অ্যাম্বুলেন্স ৪, এসইউভি (জিপ) ২, মোটরসাইকেল ১৫৭, থ্রি-হুইলার ৯৩ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ১৮ (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র), প্যাডেল রিকশা-বাইসাইকেল ১২ এবং অজ্ঞাত যানবাহন রয়েছে ১৪টি।
সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। ৯৫টি দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১০১ জন। সবচেয়ে কম ৯টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছে সিলেট বিভাগে। একক জেলা হিসেবে ফরিদপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছে।
রোড সেফটির চোখে ঈদযাত্রা
নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার প্লাটফর্ম রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন বলছে, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে ১ কোটির বেশি মানুষ ঘরমুখী যাত্রা করেছেন এবং দেশের ভেতরে প্রায় ৪ কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। ঘরমুখী ও ফিরতি ঈদযাত্রায় ট্রেন ব্যতীত সড়ক ও নৌপথে ভোগান্তি ‘তুলনামূলক কম’ হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের পথে যানজট হয়েছে জানিয়ে মূল্যায়নে রোড সেইফটি এও বলেছে, অব্যবস্থাপনার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে, যা সরকার রোধ করতে পারেনি। টিকেট কেটেও কিছু যাত্রী নির্ধারিত ট্রেনে উঠতে পারেননি। ঢাকার সদরঘাটে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল, তবে দুর্ঘটনা ঘটেনি।
ঈদযাত্রায় টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষ প্রাণ হারান, তারা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এক্সপ্রেসওয়ে ও অন্যান্য মহাসড়কে থেমে থাকা বিকল যানবাহনের পেছনে অন্য যানবাহন ধাক্কা দেওয়ায় ১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
২০২৫ সালের কোরবানির ঈদের আগে-পরে ১২ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১২ জন নিহত হয়েছিলেন। প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছিলেন ২৬ জন। এবছরে প্রতিদিন গড়ে ২১.৬১ জন নিহত হয়েছেন। এই হিসাবে গত বছরের তুলনায় সড়কপথে প্রাণহানি কমেছে ১৬.৮৮%। তবে প্রাণহানি কমার এই হার কোনো উন্নতির সূচক নির্দেশ করছে না বলে মন্তব্য করেছে রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন।
তাদের কথায়, পরিবহন খাতে কোনো প্রকার ‘ব্যবস্থাপনাগত’ উন্নতি ঘটেনি। কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ১১ জন পথচারী নিহত হয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৫৭ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর।