১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিরে টেনে নেওয়া সেই শিশুর মাকে ৩ বছর পর খুঁজে পেলেন স্বজনরা

সংবাদমাধ্যমে ছবি দেখে ময়মনসিংহে থাকা স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন।

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jun 2026, 11:42 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:20 PM

বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়া শিশুটি তার মাসহ তিন আগে ময়মনসিংহ থেকে নিখোঁজ হয়েছিল বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। 

তারা বলছেন, ছবিসহ ফাতেমা নামের শিশুটির মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে আসার পর তাদের শনাক্ত করেছেন তারা।  

যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার ওই নারীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন।

ফাতেমার মা ফজিলা খাতুন (৪৫) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর হরিচাঁদ গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্য, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

পরে তারা বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার এলাকায় বসবাস করতে থাকেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘ফাতেমার মা’ নামেই পরিচিত ছিলেন।

সোমবার রাতে মাজারসংলগ্ন দিঘির ঘাট থেকে আট বছর বয়সী ফাতেমাকে টেনে নিয়ে যায় কুমির। মঙ্গলবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে বুধবার ওই কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বুধবার রাতে ছবি দেখে ফজিলার পরিবার তাকে শনাক্ত করেন। এরপর তারা ময়মনসিংহ থেকে বাগেরহাটে রওনা দেন।

বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা মাজার এলাকায় পৌঁছে ফজিলা খাতুনকে খুঁজে পান। পরে দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

ফজিলার ভাই হারেজ আলী বলেন, “সকালে এসে দেখি আমার বোন মাজারের পূর্ব পাশে একটি ঘরের সঙ্গে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে। আমাকে দেখে উঠে বসে। পরে তাকে ফাতেমার কবরের কাছে নিয়ে যাই। তখন সে শুধু বলছিল, ‘আমার ফাতেমা আমার কাছে নাই। কুমির আমার বাচ্চাকে খাইছে। কুমির আমারেও খাইয়া ফেলুক’।”

ফজিলার মা হাজেরা খাতুন বলেন, “আমার ছয় সন্তানের মধ্যে ফজিলা সবচেয়ে বড়। আমাকে দেখে সে বলছিল, ‘আমার মেয়েকে না দিলে আমি যামু না।’ নাতনির জন্য এখন আমার মন কাঁদে। ছোটবেলা থেকে আমিই তাকে মানুষ করেছি।”

ফজিলার তৃতীয় সন্তান বজলুর রহমান; যিনি মাকে নিতে পরিবারের সঙ্গে বাগেরহাটে এসেছিলেন। বলেন, “মোবাইলে খবর দেখে আমরা এখানে এসেছি। তিন বছরের বেশি সময় পর মাকে ফিরে পেলাম, কিন্তু আমার ছোট বোন আর নেই।”

ইউএনও মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, পরিবারের দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি ময়মনসিংহে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। সবকিছু যাচাইয়ের পর ফজিলা খাতুনকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

খানজাহান আলী মাজার দিঘির কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ, ফেরতের দাবি

সরানো হলো খানজাহান আলী মাজার দিঘির কুমির, রাখা হবে খুলনায়

খানজাহান আলীর মাজার: কুমিরে টেনে নেওয়া শিশুর লাশ উদ্ধার

 খানজাহান আলীর মাজারের পুকুরে শিশুকে টেনে নিয়ে গেল কুমির