মধ্যরাত থেকে নদী-সাগরে ২২ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ, হতাশা জেলেদের
জেলেদের ভাষ্য, সরকার আগামী ১২ অক্টোবর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা দিলে সবারই ভালো হতো।
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাটকা সংরক্ষণ, মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন সাগর-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। শুক্রবার মধ্যরাত শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
এতে হতাশ প্রকাশ করেছেন দ্বীপজেলা ভোলার মৎসজীবীরা। তারা বলছেন, মৌসুমের শেষ ভাগে যখন নদীতে ইলিশের মুখ দেখা শুরু করেছেন, তখনই নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন।
জেলেদের দাবি, সরকার আগামী ১২ অক্টোবর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা দিলে সবারই ভালো হতো।
তবে সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এর মধ্যেই মৎস্য বিভাগ, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে উপকূলীয় এলাকায় চালানো হচ্ছে সচেতনামূলক প্রচারণা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, “এ নিষেধাজ্ঞা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলার নিবন্ধিত জেলারা ২৫ কেজি করে চাল পাবেন।
ইতিমধ্যে ওই চালের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন এবং বেড়ে ওঠার জন্য প্রতি বছর মেঘনা ও তেঁতুলিয়াসহ সংযোগ নদী গুলোতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ সময় নদী-সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ভোলার মেঘনা নদীর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার এবং তেঁতুলিয়া নদীর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারে সকল প্রকার মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।
ভোলার সাতটি উপজেলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৮৮৬ জন। তবে, বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ পর্যন্ত হতে পারে।
ভোলার নাছির মাঝি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় জেলে নিজাম মাঝি, কালু ও মাইনুদ্দিন মাঝির সঙ্গে।
তারা বলেন, এবার মৌসুমের শুরু থেকেই ভোলার নদনদী ছিল ইলিশ শূন্য। ফলে পুরো মৌসুমেই তারা বেকার সময় কাটিয়েছেন। কিন্তু মৌসুমের শেষ ভাগে এসে কিছু ইলিশের দেখা পেতে শুরু করেছিলেন। তখন আবার নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছে।
তারা আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তাদেরকে যথাযথ সাহায্য করলে তারা লোকসান ও ক্ষতি থেকে কিছুই মুক্তি পাবেন।
ভোলা সদরের তুলাতুলি মাছঘাটের আড়ৎ মালিক নোয়াব জানান, “ভরা মৌসুমে ইলিশ না পেয়ে আমরা ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত তেমনি জেলেরাও হতাশ। তাই ১২ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা দিলে সবারই ভলো হতো।“
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বিশেষ সভায় 'মা' ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিষদ আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, আশ্বিনী পূর্ণিমার আগের চার দিন ও অমাবস্যার পরের তিন দিনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ২২ দিন ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫’ চলবে। এ অভিযানে মৎস্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেবে।
এ সময় ৩৭ জেলার ১৬৫ উপজেলার ছয় লাখ ২০ হাজার জেলে পরিবারকে সরকারিভাবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান সরকারের এই উপদেষ্টা।
