একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকশিল্পী সুষমা দাশের প্রয়াণ
২০১৭ সালে একুশে পদক পাওয়া প্রবীণ এই শিল্পীর পরিবারের অনেকেই সংগীতের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকশিল্পী সুষমা দাশ সিলেট নগরীতে নিজ বাসায় মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
বুধবার বিকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে তার মেজো ছেলে প্রবীর দাশ জানান।
তিনি বলেন, মা বেশ কিছু দিন থেকে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সিলেট নগরীর হাওলাদার পাড়ার নিজ বাসভবনে ছিলেন তিনি।
লোক সংগীতে অবদানের জন্য ২০১৭ সালে একুশে পদক পাওয়া প্রবীণ এই শিল্পীর মৃত্যুতে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে বিকাল ও সন্ধ্যায় শিল্পীর বাসায় ভিড় করেন অনুরাগীরা।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, সুনামগঞ্জের শাল্লার চাকুয়ায় গ্রামের বাড়িতে তাকে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
মত্যুকালে চার ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন সুষমা দাশ। গত ১৩ মার্চ থেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যান তিনি। এরপর অবস্থার অবনতি হলে বাসাতেই রাখা হয়েছিল।
লোক সংগীত শিল্পী সুষমা দাশ গান করেছেন বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম, বাউল দুর্বিন শাহ, বাউল আলী হোসেন সরকার, বাউল কামাল পাশাসহ বাংলাদেশের প্রবীণ শিল্পীদের সঙ্গে।
একুশে পদক ছাড়াও অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন লোক সংগীতের এই সাধক শিল্পী। তিনি রবীন্দ্রপদক ২০১৯, কলকাতা বাউল ফকির উৎসব সম্মাননা ১৪১৭, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সম্মাননা, লালন শাহ ফাউন্ডেশন সম্মাননা, জেলা শিল্পকলা একাডেমি গুণীজন সম্মাননা ২০১৫, বাংলাদেশ বেতার গুণীজন সম্মাননা পান।
খ্যাতনামা লোককবি রশিকলাল দাশ ও লোককবি দিব্যময়ী দাশের বড় সন্তান সুষমা দাশ ১৯২৯ সালে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পেরুয়া গ্রামে জন্ম নেন।
ছয়-ভাইবোনের মধ্যে সুষমা দাশ ছিলেন সবার বড়। তার ছোটভাই একুশে পদকপ্রাপ্ত পণ্ডিত রামকানাই দাশ ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী। পরিবারের অন্য সদস্যরাও সংগীতের সঙ্গে জীবনযাপন করছেন।
