নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষ: গুলিতে কিশোরের মৃত্যু
“প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে তার বুকের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।”
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে সংঘর্ষে গুলিতে এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে।
বুধবার সকাল ৬টায় উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে রায়পুরা থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন।
নিহত ১৪ বছর বয়সী মুস্তাকিম মিয়া ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে।
পুলিশ বলছে, সম্প্রতি রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের সায়দাবাদ এলাকায় দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে একাধিক সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং বাড়িতে হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় এলাকার একটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন হানিফ মাস্টার; অন্যটির এরশাদ মিয়া।
ওই ঘটনার জেরে সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় হানিফের অনুসারীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক মেম্বার ফিরোজের ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না নামের এক ব্যক্তি গুলি করে কিশোর মুস্তাকিমকে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বলছে, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
নিহতের মুস্তাকিমের মা শাহানা বেগম বলেন, “সকালে আমার ছেলে মুস্তাকিম ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না মুস্তাকিমকে গুলি করে হত্যা করেছে।
“আমরা নিরপেক্ষ, কোনো দলের না। যারা আমার বুক খালি করেছে তাদের বিচারের দাবি জানাই।”
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর বলছেন, “গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিম নামে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে তার বুকের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
“গুলিটি ছিদ্র হয়ে বেরিয়ে গেছে। পরে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।”
বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আহতের সংখ্যা তার জানা নেই।
