১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পিটিয়ে কুকুর হত্যা: দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ভিডিওতে দেখা যায়, কুকুর দুটি প্রাণে বাঁচতে ছটফট করতে থাকে।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jul 2026, 05:58 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

পটুয়াখালী সদরে দুটি কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

রোববার পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বাদী হয়ে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী সদর আদালতে মামলাটি করেন।

মামলাটি আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আল ইমরান হোসেন জানান। 

আসামিরা হলেন- উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা খেজুরতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার মৃত রশিদ হাওলাদারের ছেলে মঞ্জু হাওলাদার (৫০) এবং নুর ইসলাম হাওলাদারের ছেলে জহির হাওলাদারকে (৪৫)।

২০১৯ সালের প্রাণিকল্যাণ আইনের ৭ (২) ধারা ও দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারায় করা মামলার বরাতে আইনজীবী বলেন, ২৩ জুলাই বেলা ১১টার দিকে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরার খেজুরতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জাহাঙ্গীর প্যাদার দোকানের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেওয়ারিশ কুকুর দুটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ব্যাপক মারপিট করা হয়। এ সময় মোটা কাঠের লাঠি দিয়ে কুকুর দুটির মাথায় ও মেরুদণ্ডে আঘাত করে হত্যা করা হয়। 

পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নজরে এলে মামলা করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, কুকুর দুটি প্রাণে বাঁচাতে ছটফট করতে থাকে। বেশ কিছুক্ষণ ছটফট করার পর কুকুর দুটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

মামলার বাদী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, “ভিডিও দেখে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তারপর বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

দোকানি জাহাঙ্গীর প্যাদা বলেন, কুকুর দুটি বেওয়ারিশ হলেও প্রায় চার বছর ধরে তিনি তাদের দেখাশোনা ও খাবার দিয়ে আসছেন। নিয়মিত তাদের ভ্যাকসিনও দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, “মঞ্জু হাওলাদার বলেছেন, কুকুর দুটি তার হাঁসকে কামড়েছে। কিন্তু যেদিনের ঘটনার কথা বলছেন, সেদিন কুকুর দুটি আমার বাড়িতেই ছিল। সেটি মঞ্জু হাওলাদারকে আমি বলেছিও। কিন্তু তিনি তা শোনেননি।”

আইনজীবী মো. আল ইমরান হোসেন বলেন, “প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”