১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং: অপারেটর নিয়োগে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন চায় মেনজিস

আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে থার্ড টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম শুরু করার কথা বলেছে বেবিচক।

থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং: অপারেটর নিয়োগে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন চায় মেনজিস

ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মেনজিস এভিয়েশনের কর্মকর্তারা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Sep 2026, 10:00 PM

Updated : 17 Sep 2026, 10:00 PM

উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের থার্ড টার্মিনালের দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন চাইছে ব্রিটিশ কোম্পানি মেনজিস এভিয়েশন।

তারা বলছে, এ ক্ষেত্রে ভূ-রাজনীতিকে বাইরে রেখে কাজের মান ও অভিজ্ঞতা যাচাইয়ে যেন জোর দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অপারেটর হিসেবে কাজটি পেলে কী করবে, কত বিনিয়োগ করবে, এরকম কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরে মেনজিস এভিয়েশন।

তবে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে এয়ারলাইন্সগুলোর দীর্ঘ অভিযোগের মুখে মেনজিস বলছে, তারা সস্তা নয়, তারা কাজের মানে বিশ্বাসী।

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মেনজিস এভিয়েশনের মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়া অঞ্চলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস ওয়াইলি, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের অপারেশনসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন হেন্ডারসন ও ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পরিচালক সাকিব এরশাদ।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে থার্ড টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।

থার্ড টার্মিনালের শুরু থেকেই এটা একরকম নির্ধারিত যে জাপানি সংস্থাগুলোর একটি কনসোর্টিয়াম এখানে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজটি পাচ্ছে।

এখন গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দ্বিতীয় অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পেতে চেষ্টা করে যাচ্ছে কয়েকটি কোম্পানি। এ দৌড়ে মেনজিস ছাড়াও আছে তুরস্কভিত্তিক চেলেবি এভিয়েশন, দুবাইভিত্তিক ডিনাটা, সুইসপোর্ট ও সিঙ্গাপুর ভিত্তিক স্যাটস (সাবেক সিঙ্গাপুর এয়ার টার্মিনাল সার্ভিসেস)।

ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক গেল মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে দেখা করেছেন।

ওই বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়নে এয়ারবাস কেনার প্রক্রিয়া, কার্গো হ্যান্ডলিং, সরকারের এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা, থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিমানের সঙ্গে মেনজিস এভিয়েশনের কাজ করার আগ্রহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় মেনজিস এভিয়েশনের কর্মকর্তারা ঢাকায় ব্রিটিশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জন হেন্ডারসন বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা কার্যক্রমের প্রথম বছরেই এক হাজারেরও বেশি ভালো বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব, যারা সরাসরি মেনজিস-এর অধীনে নিয়োগ পাবে। বাংলাদেশে কার্যক্রমের জন্য প্রায় পুরো জনশক্তি স্থানীয়ভাবে নিয়োগ করা হবে।

“আমাদের হয়তো এক বা দুজন (আন্তর্জাতিক কর্মী) থাকতে পারে, তবে সেটাই হবে সর্বোচ্চ। অন্য সবাই স্থানীয় হবে।”

তিনি বলেন, এ কাজগুলোর মধ্যে চেক-ইন এজেন্ট, ব্যাগেজ হ্যান্ডলার এবং ইকুইপমেন্ট অপারেটর থেকে শুরু করে কাস্টমার সার্ভিস, ডেসপ্যাচ এবং ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্টের পদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

হেন্ডারসন বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের সাধারণত সরাসরি কার্যক্রমে নামানোর আগে এক মাস পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মেনজিস প্রশিক্ষিত কর্মীদের একটি পাইপলাইন তৈরি করতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, এভিয়েশন স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করারও পরিকল্পনা করেছে।

মেনজিস থার্ড টার্মিনালে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং লাইসেন্সের জন্য প্রতিযোগিতা করছে, যার বাছাই প্রক্রিয়াটি টার্মিনাল অপারেটর কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

চার্লস ওয়াইলি বলেন, “এক্সপ্রেশন-অব-ইন্টারেস্ট প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং কনসোর্টিয়াম পরবর্তীতে যোগ্য কোম্পানিগুলোর কাছে প্রস্তাব পাঠানোর জন্য অনুরোধ পাঠিয়েছে।”

তিনি বলেন, “মেনজিস বুঝতে পেরেছে যে চারটি কোম্পানি দরপত্রের জন্য যোগ্য হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এক বা সম্ভবত দুটি কোম্পানিকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হতে পারে।”

যাত্রী সেবার বিষয়ে মেনজিস কর্মকর্তা হেন্ডারসন বলছেন, তাদের আন্তর্জাতিক মান হল ওয়াইড-বডি এয়ারক্রাফট থেকে প্রথম ব্যাগেজটি ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে এবং শেষ ব্যাগটি ৪০ মিনিটের মধ্যে সরবরাহ করা।

তারা হ্যান্ডলার হিসেবে যুক্ত হলে দেশের উচ্চ ফ্লাইটভাড়া কমতে পারে কি না, সে বিষয়ে চার্লস ওয়াইলি বলেন, “গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং একটি এয়ারলাইনের সামগ্রিক পরিচালন ব্যয়ের খুব ছোট একটি অংশ। একটি বিজনেস-ক্লাস সিটের ভাড়ার চেয়েও কম। জ্বালানি এবং এয়ারলাইনের পরিচালন ব্যয় এর চেয়ে অনেক বড় অংশ।”

১৮৩৩ সালে স্কটল্যান্ডে শুরু হওয়া এবং ১৯৯০-এর দশকে এভিয়েশন ব্যবসায় প্রবেশ করা মেনজিস গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্গো, এয়ারক্রাফটে জ্বালানি সরবরাহ এবং যাত্রী পরিষেবা দিয়ে থাকে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনা বা রাজনৈতিক প্রভাব কোনো ভূমিকা রাখতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিচালক সাকিব এরশাদ সরাসরি এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি।

তিনি বলেন, “আমরা মেনজিসের প্রস্তাবের বিষয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং তারা বাংলাদেশের জন্য (তাদের প্রস্তাবগুলো) খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, যার জন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”