Published : 26 Jul 2026, 06:05 PM
প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির মধ্যকার বহু আলোচিত একীভূতকরণ (মার্জার) প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন আদালত।
চুক্তিটি আটকে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের যৌথভাবে করা এক রিট আবেদন বিচারকের পর্যালোচনায় থাকায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে মার্কিন সংবামাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস।
২০ জুলাই বিচারক অ্যারাসেলি মার্টিনেজ-ওলগুইন অঙ্গরাজ্যগুলোকে দুই সপ্তাহের জন্য যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে তার মেয়াদ আরও বাড়ল। তবে বিচারক আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়ার পরেই এমনটা কার্যকর হবে।
নতুন সমঝোতা অনুসারে, ২০২৭ সালের ১ জুন পর্যন্ত বা এ অধিগ্রহণ অ্যান্টিট্রাস্ট আইন লঙ্ঘন করে কি না সে বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরবর্তী পাঁচ দিন পর্যন্ত প্যারামাউন্ট সরাসরি ব্যবসায়িক কার্যক্রম একীভূত করতে পারবে না।
এ সিদ্ধান্তের পর ৩ অগাস্টের নির্ধারিত শুনানি বাতিল হয়েছে। একইসঙ্গে অঙ্গরাজ্যগুলো ও ‘রাইটার্স গিল্ড অফ আমেরিকা’ বা ডব্লিউজিএ-এর যারা গত ১৪ জুলাই পৃথক মামলা করেছিল তারাও তাদের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তিনটি পক্ষকেই আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পৃথক মামলার জন্য নতুন বিচারিক খসড়া সূচি জমা দিতে বলেছে আদালত।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট’কে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডব্লিউজিএ বলেছে, “স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল ও ডব্লিউজিএ আদালতের কাছে যা চেয়েছিল, প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি তাতে সম্মত হয়েছে।
“এ মামলার চূড়ান্ত রায় না আসা বা ২০২৭ সালের ১ জুন পর্যন্ত এ একীভূতকরণ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। আমরা মনে করি, চুক্তিটি পুরোপুরি বেআইনি ও তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
ফেব্রুয়ারিতে নেটফ্লিক্সকে পেছনে ফেলে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত চুক্তি করে প্যারামাউন্ট। শেয়ারপ্রতি ৩১ ডলার মূল্যে স্টুডিওটির মোট বাজারমূল্য ধরা হয় প্রায় ১১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এতদিন পর্যন্ত একীভূত বাস্তবায়নে খুব একটা বড় বাধার মুখে পড়তে হয়নি কোম্পানিটিকে।
জুনেই এ মেগা চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দেয় মার্কিন বিচার বিভাগ। এ সপ্তাহের শুরুতে ইউরোপীয় কমিশনও শর্তসাপেক্ষে এতে সায় দেয়, যার মধ্যে মূল শর্ত ছিল প্যারামাউন্টকে ইউনিভার্সালের সঙ্গে তাদের ইউরোপীয় পরিবেশনা চুক্তি বাতিল করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও হলিউডের অন্যতম বড় শ্রমিক ইউনিয়নের তীব্র বিরোধিতা এখন প্যারামাউন্টের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, প্যারামাউন্ট বিষয়টি যতটা সহজ ভেবেছিল তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে তারা।
আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে না পারলে প্যারামাউন্টকে প্রতি প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ০.২৫ ডলার, অর্থাৎ দিনে প্রায় ৭০ লাখ ডলার অতিরিক্ত গুণতে হবে। তবুও বিষয়টি আদালতে গড়ানোকে নিজেদের পক্ষেই দেখছে প্যারামাউন্ট।
নিউ ইয়র্ক টাইমস’কে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্যারামাউন্ট বলেছে, “চুক্তিটি যে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করবে, গ্রাহকদের উপকারে আসবে ও কনটেন্ট নির্মাতাদের স্বার্থ রক্ষা করবে– আদালতে যাওয়াটাই তা প্রমাণ করার সবচেয়ে দ্রুত ও স্পষ্ট উপায়।”