Published : 07 Jun 2026, 05:59 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির পুকুর পাড়ে শিরু মিয়া নামে এক ব্যক্তির একটি চায়ের দোকান রয়েছে। সেই দোকানে সারাদিন টেলিভিশন চলে আর দোকানের পাশে পুকুরের ঘাটলায় মানুষের জটলা জমে। সামনের রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী গ্রামের নারীদের উদ্দেশে বখাটেরা অপ্রীতিকর মন্তব্য করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি গ্রামের একটি বৈঠকে সেই দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়।
পাশাপাশি গ্রামের মিন্দান আলী বা ‘ছোট গোষ্ঠী’র মো. জোবায়েরের লোকজনের সঙ্গে ‘ভূঁইয়া বাড়ি’ বা ‘মধ্যি বাড়ি’ মো. জয়নাল আবেদীনের সমর্থকদের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘ বিরোধ রয়েছে।

গ্রামের ‘ছোট গোষ্ঠী’ এবং ‘ভূঁইয়া বাড়ির’ সমর্থকরা শিরু মিয়ার দোকান উচ্ছেদের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কারণ, ‘ভূঁইয়া বাড়ির’ সমর্থকরা দোকান উচ্ছেদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
দোকান উচ্ছেদ নিয়ে রোববার সকালে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের উভয় পক্ষের দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এক পর্যায়ে সংঘর্ষ গ্রামের ভেতর থেকে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ১১টার দিকে সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এতে ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামের ‘ভূঁইয়া বাড়ি’র পুকুর পাড়ের শিরু মিয়ার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া ‘ছোট গোষ্ঠী’র মো. জোবায়ের এবং ‘ভূঁইয়া বাড়ি’র মো. জয়নাল আবেদীনের মোবাইলও বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া বলেন, “গ্রামে শিরু মিয়ার চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকদিন আগে এক সালিশে দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও একটি পক্ষ তা মানেনি। এসব নিয়ে তারা প্রস্তুতি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।