২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি ৮৫০ জনকে উদ্ধার

জেলায় দুই দিনে বন্যার পানিতে ডুবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে; ভেসে এসেছে অজ্ঞাত পরিচয় এক লাশ।

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি ৮৫০ জনকে উদ্ধার
নালিতাবাড়ীর বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে পানিবন্দী মানুষদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন বিজিবির সদস্যরা।

শেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Oct 2024, 11:20 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:19 PM

দুই দিনের টানা বর্ষণ-পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৮৫০ জনকে উদ্ধারের পাশাপাশি পানিবন্দিদের মাঝে খাবার সরবরাহ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার এবং চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদীর কমপক্ষে ১৮টি ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট, বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। অসংখ্য বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলায় দুই দিনে বন্যার পানিতে ডুবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে; ভেসে এসেছে অজ্ঞাত পরিচয় এক লাশ। 

তবে আর বৃষ্টি না হলে রোববার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান।

ঝিনাইগাতী উপজেলার ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, উপজেলার পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীতে কমলেও উজানের পানি ভাটিতে গিয়ে জমেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রতিটি ঘরে গিয়ে বানভাসী মানুষদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। 

এদিকে, বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় শুক্র ও শনিবার বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে ৮৫০ জনকে উদ্ধার করেছেন তারা। পরে উদ্ধারদের বিজিবি বিওপির কাছে উঁচু স্থানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিজিবির পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে মুড়ি, চিড়া, গুড় ও রুটি এবং রাতে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

ঝিনাইগাতীতে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিএনপির

শনিবার ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর, ধানশাইল, মালিঝিকান্দা ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের সাতটি স্থানে এক হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী এবং ৩০০ জনের মাঝে এক লাখ টাকা বিতরণ করেছেন শেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল।

এ সময় শেরপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু রায়হান রূপন এবং ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুল মান্না ছিলেন।

মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ব্যক্তিগতভাবে যতটুকু পারছি, বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।”