নেত্রকোণায় নিখোঁজ নারীর মাটিচাপা লাশ উদ্ধার, সাবেক স্বামী আটক
সাত দিন আগে ওই নারী সাবেক স্বামীর ডাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন বলে জানায় পুলিশ।
নেত্রকোণার সদরে নিখোঁজের সাত দিন পর নদীর তীরে মাটি খুঁড়ে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার সাবেক স্বামীকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামে নদীর তীর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের।
নিহত নাজু আক্তার (৩৪) নেত্রকোণা পৌর শহরের কাটলী এলাকার প্রয়াত ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে।
আটক নুরুল আমীন (৪০) উপজেলার নগুয়া গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে।
ওসি আবুল খায়ের বলেন, প্রায় বছর খানেক আগে নুরুল আমীন ও নাজু আক্তারের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদ হওয়ার পর আদালতে মামলা চলছে। এ ছাড়া আরেক মামলার রায়ে নাজুকে খোরপোষ দিয়ে আসছিলেন নুরুল আমিন। এর মধ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ হন নাজু।
তিনি বলেন, পরে ২২ সেপ্টেম্বর নাজুর ভাই শুভ মিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিষয়টি তদন্তে নেমে শুক্রবার দুপুরে নাজুর সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে নুরুল হত্যার বিস্তারিত খুলে বলেন।
পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ও তাকে সঙ্গে নিয়ে নদীর তীরের মাটি খুঁড়ে নাজুর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান ওসি আবুল খায়ের।
নুরুল আমীনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ওসি বলেন, “তিন মাস ধরে নাজুকে খোরপোষের টাকা দিচ্ছিলেন না নুরুল আমীন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় টাকা দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে নাজুকে নগুয়া গ্রামে ডেকে নেন নুরুল।
“সেখানে নদীর তীরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নাজুকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখেন নুরুল। পরে নাজুর মোবাইল ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগসহ অন্যান্য জিনিসপত্র গ্রামের শ্মশানের পাশে পুঁতে রাখেন।”
ওসি আবুল খায়ের বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
