বেলকুচিতে ‘বোমায়’ নিহত: শ্রমিক লীগ নেতাকে আসামি করে হত্যা মামলা
সাত দিন আগে নিহতের ঘটনায় করা মামলায় শ্রমিক লীগ নেতাসহ অজ্ঞাত পরিচয় তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় শ্রমিক লীগ নেতার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহতের ঘটনার সাত দিন পর হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে।
বিস্ফোরণে নিহত ফজলুল হক ফজলু শেখের (৪৫) ছোট ভাই বাদী হয়ে সোমবার রাতে মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন বেলকুচি থানার ওসি আনিছুর রহমান।
মামলায় উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোতালেব হোসেন সরকারসহ অজ্ঞাত পরিচয় তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি আনিছুর বলেন, সোমবার রাতে নিহত ফজলু শেখের ভাই, ছেলে ও মেয়ে জামাই থানায় আসেন। পরে নিহতের ছোট ভাই বিপুল রহমান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
১৯ ডিসেম্বর দুপুরে উপজেলার সুবর্ণসাড়া গ্রামের সরকার বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় বাড়ির মালিক শ্রমিক লীগ নেতা মোতালেব হোসেন দাবি করেন, রাইস কুকার বিস্ফোরণে শব্দ হয়েছে।
বিস্ফোরণে আহত কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মিল্কপাড়ার তোফাজ্জল শেখের ফজলু শেখ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
তিনি রাজবাড়ির পাংশা উপজেলায় বসবাস করতেন বলে জানায় পরিবার। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ তিনটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় এনায়েতপুর থানার সৌদিয়া চাঁদপুর গ্রামের তাছের আলীর ছেলে জিন্নাহ আলী (৪৫) আহত হয়েছে বলে শোনা গেলেও তার কোনো খোঁজ দিতে পারেনি পুলিশ।
সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দুটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান সহকারী পুলিশ সুপার একরামুল হক।
সোমবার তিনি বলেন, “বোমা বিস্ফোরণের সত্যতা পেয়েছি। এর কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা বিষয়টির ছায়া-তদন্ত করছি। প্রয়োজন হলে আমরা আবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব।”
সিআইডি টিমে নেতৃত্ব দেওয়া পরিদর্শক মোহাইমিনুল সরকার বলেন, “ঘটনার পরপরই অধিকাংশ আলামত নষ্ট করা হয়েছে। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত টাইলস বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মেঝেতে বসানো হয়েছে নতুন টাইলস।”
