Published : 15 Jul 2026, 01:52 PM
গোপালগঞ্জে সপ্তাহ জুড়ে ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে ৩০৬ হেক্টর জমি। এতে ধান-পাট-সবজি ক্ষেত ডুবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন সবজি চাষিরা।
জেলার পাঁচ উপজেলায় অন্তত ৮৫ হেক্টর জমির শাক-সবজি ক্ষেত তলিয়ে ১ হাজার ৩৬০ জন সবজি চাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামার বাড়ির উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ৫ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিতে জেলার ৩০৬ হেক্টর জমিতে আউশ, বোনা আমন, মরিচ, তিল, কলা, শশা, পেপে, আদা, ভূট্টা, গ্রীষ্মকালীন পেয়াজ, পাট ক্ষেত ও বিভিন্ন সবজি ডুবে গেছে। এতে চাষিরা বিপাকে পড়েছেন।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ গোবরা গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, “২০ শতাংশ জমিতে ধুন্দল, করলা ও বরবটির আবাদ করেছিলাম। টানা বৃষ্টিতে গাছের গোড়ায় পানি জমেছে। এখন গোড়া পচে গাছ মারা যাচ্ছে। এতে আমার ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হবে।”
গোবরা ইউনিয়নের পোদ্দারের চর গ্রামের অমিত হাসান বলেন, ৫২ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। বৃষ্টিতে মরিচগাছের গোড়া পচে মারা যাচ্ছে। এতে হাজার দশেক টাকার ক্ষতি হতে পারে।
ওই ইউনিয়নের চরগোবরা গ্রামের রমজান বলেন, “২৫ শতাংশ জমিতে মরিচ করে ছিলাম। অতি বৃষ্টিতে মরিচ গাছে মড়ক লেগেছে। গাছে যে মরিচ আছে তা বিক্রি করলেও ৫ হাজার টাকার ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করছি।”

এ গ্রামের কৃষক শেখ আজিজুর রহমান বলেন, “১০০ শতাংশ জমিতে আউশ ধানের আবাদ করেছিলাম। বৃষ্টিতে সব ধান তলিয়ে গেছে। তবে এখন পানি নেমে ধানের চারা জেগে উঠতে শুরু করছে। এগুলো জলমগ্ন জাতের ধান, তাই বড় ধরনের ক্ষতি হবে না, বলে ধারণা করছি।”
ওই গ্রামের কৃষক সাফায়েত মোল্রা বলেন, ৫২ শতাংশ জমির আউশ ধান তলিয়ে গেছে। এতে ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হতে পারে।
তবে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজ আক্তারের ধারণা বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন, এ সময়ে সদর উপজেলার মাঠে তেমন ফসল থাকে না। বৃষ্টিতে কিছু ফসল আক্রান্ত হয়েছে, তবে সেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি।
“পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা কৃষককে পরামর্শ দিচ্ছি। তবে ২/৩ সপ্তাহ পর ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।”
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের উ-পসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজ কুমার রায় বলেন, “আমার ব্লকে ছয় হেক্টরে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে দুই হেক্টর তলিয়ে গেছে। পানি নেমে যাচ্ছে ধানের গাছ জেগে উঠেছে। এক হেক্টরের কম জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৫০ শতাংশ জমির সবজি। এর মধ্যে মরিচ, ধুন্দল, বরবটি ও করলা রয়েছে । আমি ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপনের কাজ শুরু করেছি।”
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, ৫ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত এ জেলায় ৩৯৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মাঝে কিছু কমলেও বৃহস্পতিবার থেকে জেলায় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে ।

মাস জুড়েই জেলায় কমবেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে এ আবহাওয়াবিদ।
তবে মাছের জেলা হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ জেলায় ৭ দিনের বৃষ্টিতে এ সেক্টরে কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান।
ওই কর্মকর্তা এ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গোপালগঞ্জ নিম্ন জলাভূমি তথা বিল বেষ্টিত জেলা।এখানে ২২৯টি বিল ও জলাভূমি, ১০টি নদী, ৬টি বাওড় ও ৩৩৪ টি খাল রয়েছে। এসব উৎস হতে এ জেলায় প্রতি বছর অন্তত ৪২ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। এখন পর্যন্ত জেলার কোন পুকুর বা মৎস্য ঘের তলিয়ে মাছ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামার বাড়ির উপ-পরিচালক মামুনুর রহমান বলেন, “বৃষ্টির পরিমাণ কমায় এখন ক্ষেত থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। আমাদের মাঠকর্মীরা মাঠে গিয়ে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছেন। সেই সাথে তারা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা প্রস্তিুত করছেন।”
আগামী ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে মোট ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ জানা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।