১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মেহেরপুরে সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রীর স্ত্রী ৩ দিনের রিমান্ডে

রোববার রাতে ঢাকার ইস্কাটনে বোনের বাড়ি থেকে মোনালিসাকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী।

মেহেরপুরে সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রীর স্ত্রী ৩ দিনের রিমান্ডে
মেহেরপুরে সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসা ইসলামকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে।

মেহেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Feb 2025, 07:46 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:50 AM

অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে মেহেরপুরের একটি আদালত।

সোমবার মেহেরপুরের আমলি আদালতে তাকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে বিচারক শারমিন নাহার শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মোখলেসুর রহমান খান স্বপন।

এর আগে রোববার রাতে ঢাকার ইস্কাটনে বোনের বাড়ি থেকে মোনালিসাকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। সকালে মেহেরপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে ঢাকা থেকে মেহেরপুর নিয়ে যায়।

আটক মোনালিসা ইসলাম মেহেরপুর জেলা মহিলা যুবলীগের সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আশরাফুল ইসলামের চাচাতো বোন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সোমবার সকালে মোনালিসাকে মেহেরপুরে নেওয়ার খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ও আদালত এলাকায় জড়ো হয়ে তাকে ধিক্কার জানিয়ে নানা ধরনের স্লোগান দেয়। কড়া পুলিশ পাহারায় তাকে মেহেরপুর সদর থানা হাজতখানা থেকে আদালতে নেওয়া হয়। 

দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে মোনালিসাকে মেহেরপুরের আমলি আদালতে রিমান্ড শুনানির জন্য হাজির করা হয় বলে জানান কোর্ট ইন্সপেক্টর মানস রঞ্জন দাস।

তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের করা মামলায় মোনালিসার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এ ছাড়া পলি খাতুন নামের এক নারীর করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মেহেরপুরে সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রীর রিমান্ড, আদালতে হট্টগোল-ডিম নিক্ষেপ

শুনানিতে মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মারুফ আহমেদ বিজন, সাবেক সভাপতি কামরুল হাসানসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা অংশ নেন। 

অন্যদিকে রিমান্ডের বিরোধিতা করেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবী ইব্রাহিম শাহিন, আব্দুল মতিন এবং ইয়ারুল ইসলামসহ অন্যরা। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোখলেসুর রহমান বলেন, “সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রীর স্ত্রীর নেতৃত্বে এলাকায় নিয়োগবাণিজ্য, টেন্ডারবাণিজ্য, অনলাইন ক্যাসিনসহ প্রশাসনিক সমস্ত লেনদেন কার্যক্রম পরিচালিত হতো। 

“আসামিকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার মালিক হওয়ার গোপন সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত নারী বিবেচনায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।”