০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

পঞ্চগড়ে পুলিশ ও বিজিবি টহলে, পরিস্থিতি শান্ত

আহমদিয়াদের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে; এখনও কোনো মামলা হয়নি।

পঞ্চগড়ে পুলিশ ও বিজিবি টহলে, পরিস্থিতি শান্ত

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Mar 2023, 01:07 PM

Updated : 04 Mar 2023, 03:34 PM

পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সালানা জলসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও আগুনের ঘটনায় দুজন নিহতের পর বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। 

আতঙ্কে পঞ্চগড় বাজারের দোকানপাট শুক্রবার দিনভর বন্ধ থাকলেও শনিবার সকাল থেকে সব প্রতিষ্ঠান খুলেছে। শহরে সাধারণের যাতায়াত ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক গতিতে চলছে। 

সরেজমিন দেখা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও আহমদিয়াদের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে; সেগুলোতে কোনো মালামাল দেখা যায়নি। 

Image

শহরে সাধারণের যাতায়াত ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক গতিতে চলছে

শুক্রবার জুমার নামাজের পর আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সালানা জলসা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করা কয়েকশ লোক দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।

থেমে থেমে তা ছড়িয়ে গেলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পঞ্চগড় শহর; সংঘর্ষের মধ্যে ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাট ভাঙচুর ছাড়াও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়।

পাশাপাশি বিভিন্ন রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় পঞ্চগড় বাজার এলাকায় একটি মার্কেটে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। পরে সেসব দোকান থেকে মালপত্র বের করে রাস্তায় পুড়িয়ে দেয়।

এরমধ্যেই প্রাণহানির খবরও জানাজানি হয়।

পুলিশ সুপার সিরাজুল বলেন, জলসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন শহরের মসজিদ পাড়া মহল্লার ফরমান আলীর পুত্র আরিফুর রহমান (২৭) এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জাহিদ হাসান (২৩)। জাহিদ জলসায় যোগ দিতে এসে আন্দোলনকারীদের হামলার শিকার হন। 

Image

পরিস্থতি স্বাভাবিক হলেও বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে দিনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর রাতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে আহমদিয়া সম্প্রদায় তিন দিনের জলসা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছেন বলেও জানান জেলা পুলিশ সুপার।

আয়োজকদের সম্মতি পাওয়ার পর শুক্রবার শুরু হওয়া এ জলসা বন্ধ রাখার কথা জানিয়ে রাতে শহরে মাইকিংও করে জেলা প্রশাসন।

শনিবার জেলা পুলিশ সুপার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এরপরও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ-বিজিবি টহলে রয়েছে। 

সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উদ্ভুত ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। কেউ গ্রেপ্তারও হয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে পুরো স্বাভাবিক রয়েছে।” 

সালানা জলসার আয়োজক কমিটির মিডিয়া কনভেনর মাহমুদ আহমদ সুমন বলেন, “আমাদের এখন পর্যন্ত মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত হয়নি, বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে আমরা বিস্তারিত জানাব।” 

Image

আহমদিয়াদের ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

তিনি বলেন, “আমরা সবসময়ই আতঙ্কে থাকতাম। গতকালের (শুক্রবার) ঘটনার পর এখনও আতঙ্কে আছি।” 

খতমে নবুয়াত সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত হয়নি। 

“আমাদের নিহত মুসল্লির নামাজে জানাযা শেষে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।” 

আরও পড়ুন

পুরানো খবর:

আহমদিয়া জলসা ঘিরে সংঘর্ষের পর থমথমে পঞ্চগড়, বিজিবির টহল
পঞ্চগড়ে আহমদিয়া জলসা বন্ধে মিছিল থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বাড়িতে আগুন