Published : 11 Sep 2025, 02:17 PM
বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পুনবর্হালের দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সড়কে আগুন জ্বালিয়ে, বেঞ্চ পেতে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করছেন হরতালের সমর্থনকারীরা।
হরতালের কারণে এ জেলার সঙ্গে আশেপাশের অন্তত চারটি জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
নির্বাচন কমিশন দাবি মেনে না নিলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ জেলায় হতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতারা।

সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সমন্বয়ক এম এ সালাম সাংবাদিকদের বলেন, “জুলাই মাসের ৩০ তারিখ প্রথম নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি বাদ দিয়ে তিনটি করার পর আমরা আন্দোলন শুরু করি। চূড়ান্ত শুনানির পর যখন তা বহাল রাখে তখন জেলার বিএনপি, জামায়াত ইসলামী, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সভা করে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি গঠন করা হয়।
“সেই সভায় আলোচনা করে দুই দফায় বিক্ষোভ মিছিল, মহাসড়ক অবরোধ ও তিনদিনের হরতালের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সবশেষ ৪৮ ঘণ্টার টানা হরতাল শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালিত হচ্ছে।”
হরতালের কারণে বরিশাল থেকে বাগেরহাটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এসে বিপাকে পড়া যাত্রী রমেশ চন্দ্র শীল বলেন, “জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে বের হয়ে বিপাকে পড়েছি। পথে পথে আন্দোলনকারীরা বাঁধা দিয়েছে। ছোট ছোট কিছু যানবাহন চলছে তাতে আসতে যেয়ে কয়েকগুন টাকা খরচ করতে হয়েছে।

“যে দাবিতে এখানে আন্দোলন হচ্ছে তা নায্য দাবি। আমি তাদের দাবির সঙ্গে সহমত জানাই। দুইদিন হয়ে গেল সরকার এখনও কেন পদক্ষেপ নিচ্ছে না তা ভেবে অবাক হচ্ছি।”
জেলা বিএনপির নেতা এম এ সালাম বলেন, “দাবি আদায় করতে রাজপথে একের পর এক কর্মসূচি দিলেও নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্টরা নির্বিকার। তারা আমাদের এই নায্য দাবি এখনও মেনে নেয়নি। আসন ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলনে গোটা বাগেরহাটবাসী সঙ্গে রয়েছে।
“হরতালে সব সরকারি অফিসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমস্যা সমাধানে সরকার এখনও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আমাদের দাবি মেনে না নিলে এই জেলায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।”
আন্দোলনকারীরা ‘শান্তিপূর্ণ’ পরিবেশে আন্দোলন করছে জানিয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল বলেন, “কোথাও বিশৃঙ্খলার খবর পাইনি। তারা আমাদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে, আমরা তা সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।”
তিনি বলেন, “দাবি মেনে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের। স্থানীয়ভাবে এই প্রশাসনের কি করার আছে।”