Published : 17 Aug 2024, 01:14 AM
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ, স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পরিবর্তন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের দাবিতে সিলেটে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে ‘দ্রোহকাল’ পরিবেশিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল ৪টায় সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জেলা আহ্বায়ক নাজিকুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে ও সদস্য মাসুদ রানার পরিচালনায় এ অনুষ্ঠান হয়।
চারণের শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে বক্তব্য দেন প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেম, বাসদ সিলেট জেলার আহ্বায়ক আবু জাফর, বাসদ জেলা সদস্যসচিব ও বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ জেলা সমন্বয়ক প্রণব জ্যোতি পাল, বাসদ জেলা সদস্য জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী সুমন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের আহ্বায়ক মাসুমা খানম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সন্দীপ দেব, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি বিশ্বজিৎ শীল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের মামুন ব্যাপারী।
দ্রোহকালের আলোচনায় বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ পরিচালনা করে দেশে ১৫ বছর একটি ফ্যাসিবাদী, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চাপিয়ে দিয়েছিল। জনগণের সব ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে তারা অবৈধ নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে ছিলো। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে।
বক্তারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচার পতনের পর নতুন করে ৭১ সালের, ৯০ সালের পরাজিত শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। এক স্বৈরাচারী সরকারের পরিবর্তে আরেক স্বৈরাচারী সরকার যেন আসতে না পারে সেই দিকে ছাত্র-জনতাকে সজাগ থাকতে হবে।
তারা বলেন, সব ধরনের বৈষম্য দূর করে সব জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষদের জন্য বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান সময়ে বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় দেশ গড়তে সাংস্কৃতিক আন্দোলন জরুরি। চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সেই আন্দোলন গড়ে তুলতে চায় সব প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে।