০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

রাজবাড়ীতে অপহরণের পর কিশোরকে ভারতে পাচার, ২ যুবকের যাবজ্জীবন

২০১২ সালের ১০ মে ভারতে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে দুই কিশোরকে অপহরণ করা হয়; যাদের মধ্যে ১৭ দিন পর একজন ফিরে আসলেও অন্যজন নিখোঁজ রয়েছেন।

রাজবাড়ীতে অপহরণের পর কিশোরকে ভারতে পাচার, ২ যুবকের যাবজ্জীবন

রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 07:29 PM

Updated : 02 Nov 2026, 07:45 PM

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা থেকে অপহরণের পর কিশোরকে ভারতে পাচারের ঘটনায় করা মামলায় দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দি‌য়ে‌ছে আদালত।

সোমবার দুপুরে রাজবাড়ীর মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তহিদুল ইসলাম আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন ব‌লে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা জানিয়েছেন।

দ‌ণ্ড পাওয়ারা হলেন- উপজেলার ধুলিয়াট গ্রামের আদো মণ্ডলের ছেলে মো. রেজাউল মণ্ডল (১৮) এবং একই গ্রামের প্রয়াত আতর আলী মিয়ার ছেলে মো. শাহীদুল মিয়া (২৭)।

মামলা থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ১০ মে ভারতে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে মো. ফারুক ওরফে মারুফ (১৬) এবং তার খালাতো ভাই মো. আজিজুল ইসলামকে (১২) অপহরণ করেন রেজাউলসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন।

প্রথমে দুই কিশোরকে মোটরসাইকেলে করে পাংশার আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। সেখান থে‌কে তা‌দের দুই পাচারকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে একটি পিকআপে করে তাদের কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশনে নেওয়া হয়।

সেখান থেকে ট্রেনে তুলে তাদের পানীয়ের সঙ্গে কিছু খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর ভারতে পাচারের উদ্দেশে তাদের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। ১৭ দিন পর আজিজুল কৌশলে পালিয়ে যশোর শহরের পালবাড়ীর মুক্তির মোড়ে আসেন।

সেখানকার একটি চা দোকানির মোবাইল ফোন থেকে বাড়িতে যোগাযোগ করেন আজিজুল। পরে পাংশা থানা-পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তবে ফারুককে ভারতে পাচার করা হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ফারুকের বাবা মো. একলাস উদ্দিন মালিথা একই বছরের ২৬ মে পাংশা থানায় রেজাউলসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৭ থেকে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

দীর্ঘ শুনানি শে‌ষে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে সশ্রম কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান পিপি জাহিদ উদ্দিন মোল্লা।

একই মামলার আরেক ধারায় ওই দুইজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।