Published : 17 May 2026, 11:18 AM
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রংপুর বিভাগের আট জেলায় এবার প্রায় ২০ লাখ ২৩ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যাতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, বিভাগের বিভিন্ন খামারে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে এসব পশু লালন-পালন করা হয়েছে। কৃত্রিম হরমোন বা ক্ষতিকর কোনো উপাদান ব্যবহার ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
রংপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার বলেন, আমাদের দেশে এবার পর্যাপ্ত দেশীয় পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও বিপুল সংখ্যক পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
তবে ক্রেতা কম থাকায় কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। পশুর হাটেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা। তাদের আশা, ঈদের শেষ সময়ের দিকে বাজারে ক্রেতা বাড়বে এবং পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে।
একইসঙ্গে ভারতীয় গরু অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ রোধ করা না গেলে তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
রংপুর নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উমর কুটি এলাকার ডেইরি খামারের রমজান আলীর সঙ্গে কথা হলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, এবার কোরবানির ঈদের জন্য তার খামারে সর্বনিম্ন ৭০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা দামের বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে।
“অনেকেই এসে খামার পরিদর্শন করে যাচ্ছে এখনো গরু কেনার জন্য অগ্রিম বায়না কেউ করে নাই, তবে আশা করছি ঈদের আগেই সব গরু বিক্রি হয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর কোরবানির ঈদের প্রায় পাঁচ মাস আগে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু সংগ্রহ করে তার খামারে লালন-পালন করা হয়। এবার সব গরু বিক্রি হলে খরচ বাদে প্রায় ৩০ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
বুড়ির হাট নবনিদাশ এলাকার খামাররি আব্দুস সাত্তার বলেন, “আমার খামারে ছোট বড় প্রায় ৪০-৫০টি বিভিন্ন জাতের গরু কোরবানরি ঈদের জন্য প্রস্তুত করা আছে। অনেকেই দেখার জন্য আসছে, এখন শুধু দেখে যাচ্ছে, আর বলছে কয়েকদিন পর আসবে।”
গরু হাটে তুলবেন কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “গরু হাটে তোলা লাগবে না, ইনশাল্লাহ বাড়িতেই বিক্রি হয়ে যাবে। মানুষ যেভাবে দেখে যাচ্ছে তাতে কয়েক দিনের মধ্যে আমার গরু বিক্রি হয়ে যাবে। আশা করি ১৫-২০ লাখ টাকা লাভ হবে।”
তবে তিনি দাবি করেন, খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
তার মতো একই দাবি জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন খামার মালিক। তারা বলেন, দেশে পর্যাপ্ত কুরবানির পশু রয়েছে। তাই কোনোভাবেই যাতে ভারতীয় গরু অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে প্রশাসনকে কঠোর নজর রাখতে হবে।

সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী সীমান্তে বিজিবি ও পুলিশের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
রংপুর ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম আসিফুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গরু চোরাচালান বন্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ছোট-বড় সব খামারি। আমারা যারা খামার করি সবাইতো অনেক টাকার মালিক না । ”
প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য মতে রংপুর বিভাগে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২১ হাজার খামারি রয়েছে।এর মধ্যে শুধু রংপুর জেলায় নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা প্রায় চার হাজার।
এসব খামারে ঈদের জন্য প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে গরুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এছাড়া রয়েছে মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ মতে খামারিরা কয়েক মাস ধরে পরিচর্যা ও মোটাতাজাকরণ কার্যক্রম চালিয়ে পশু প্রস্তুত করেছেন।
রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, রংপুর জেলায় ষাঁড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াসহ মোট পশু রয়েছে তিন লাখ ৬৬ হাজার ৫৯১টি। এবারের কোরবানির চাহিদা দুই লাখ ২৬ হাজার ৯৯৯টি।
কুড়িগ্রাম জেলায় পশু রয়েছে তিন লাখ ৩৬ হাজার ৯১৯টি, চাহিদা দুই লাখ ৬১ হাজার ২৪৬টি।
দিনাজপুর জেলায় পশু রয়েছে চার লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি, চাহিদা দুই লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি।
ঠাকুরগাঁও জেলায় পশু রয়েছে ৯৫ হাজার ৪৩৬টি, চাহিদা ৭৮ হাজার ৮৪৩টি।
পঞ্চগড় জেলায় পশু রয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার ৩০৩টি, চাহিদা এক লাখ ৩ হাজার ৬৫০টি।
গাইবান্ধা জেলায় পশু রয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৯৮৩টি, চাহিদা এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০টি।
লালমনিরহাট জেলায় পশু রয়েছে দুই লাখ ছয় হাজার ৪৬২টি, চাহিদা এক লাখ ৫২ হাজার ৮৮৪টি।
নীলফামারী জেলায় পশু রয়েছে দুই লাখ ৮২ হাজার ৮৫০টি, চাহিদা দুই লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬টি।
আর দুই তিনদিনের মধ্যে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পশুর হাটে কেনাবেচা শুরু হবে জানিয়ে রংপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক আব্দুল হাই সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এবার পার্শ্ববর্তী কোনো দেশ থেকে গবাদিপশু প্রবেশ করবে না। গরু চোরাচালান রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ফলে খামারিরা ন্যায্য দাম পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।