আশুলিয়ায় ৩ পোশাক কারখানায় কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধ, পুলিশ বলছে পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’
“ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে সকালে কর্মস্থলে যোগ দিয়েই কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন।”
তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’ বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার আশুলিয়ায় তিনটি কারখানায় কর্মবিরতি পালন করেছেন শ্রমিকরা।
তবে শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ‘স্বাভাবিক’ রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
তবে শ্রমিকদের দাকিকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিভিন্ন কারখানার সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
রোববার সকাল ৯টার দিকে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ, ইউনিক, জামগড়া, নরসিংহপুর, জিরাবো ও কাঠগড়া এলাকার বিভিন্ন কারখানা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলছেন, “সকাল থেকে অধিকাংশ কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’ বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে নিশ্চিতপুর এলাকার তিনটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছেন।”
তবে সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি এ পুলিশ কর্মকর্তার।
শিল্প পুলিশ জানায়, রোববার সকাল থেকে অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকরা ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ কাজে যোগ দেন। তবে নিশ্চিতপুর এলাকার ‘আল-মুসলিম অ্যাপারেলস’, ‘নিউএইজ গ্রুপ’-এর একটি কারখানা এবং ‘ট্রাউজার লাইন লিমিটেড’-এর শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন।
পরে সকাল ১০টার পরে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে সামনের বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধ করে। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা তারা সেখানে অবস্থান করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও শ্রমিকদের আশ্বস্ত করতে সকাল থেকেই শিল্প পুলিশ মাইকিং করছে।
মাইকে বলা হয়-‘শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে শিল্প পুলিশ আন্তরিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শ্রমিকদের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করছে।’
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, “ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে সকালে কর্মস্থলে যোগ দিয়েই কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন।
“পরে শ্রমিক বিক্ষোভ বাড়তে থাকলে নরসিংহ পুর জিরাবো কাঠগড়া এলাকার আশপাশের বেশ কিছু কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেন।”
দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
