সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরি, ‘পাচারচক্রের’ ১ সদস্য গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার কালাইপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনায় পাচারচক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার কালাইপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রেপ্তার মো. ৫৫ বছর বয়সী মজনু মিয়া কালাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ‘আন্তর্জাতিক প্রাণী পাচারচক্রের’ সদস্য। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় ‘জবানবন্দি’ দিয়েছেন।
চক্রটি গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি করা বিরল এ প্রাণীগুলো বিদেশে পাচার করে আসছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ছয় আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
মামলার তদন্তের বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৩ মার্চ রাতে চোরেরা গাজীপুর সাফারি পার্কের নিরাপত্তা বেষ্টনী কেটে বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির তিনটি রিং-টেইলড লেমুর (দুটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী) চুরি করে নিয়ে যায়। প্রাণীগুলোর বাজারমূল্য আনুমানিক তিন লাখ টাকা। ঘটনার পরদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মচারীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানা গেলে পার্ক কর্তৃপক্ষ শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করে।
২০১৮ সালে মাদাগাস্কার থেকে দুটি প্রতিষ্ঠান আমদানি, সংরক্ষণ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ দুটি রিং-টেইলড লেমুরসহ ৮৬ জোড়া প্রাণী বাংলাদেশে আমদানি করে। পরবর্তীতে প্রাণীগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে লেমুর দুটি আরও দুটি বাচ্চার জন্ম হলে মোট চারটি লেমুর পার্কে ছিল; এর মধ্যে একটি মারা যায়।
আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পার্কে কাজ করতেন নিপেল মাহমুদ (৩৩)। তিনি বিভিন্ন সময় বিরল প্রাণীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন প্রাইভেট গ্রুপে পোস্ট করে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতেন। এরপর ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রাণীগুলো চুরি করে বিক্রি করতেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, এই চক্রের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- জুয়েল মিয়া (৪২), ইসমাইল হোসেন হৃদয় (২৬), দেলোয়ার হোসেন তাওসীফ (২২) এবং মো. সাব্বির হোসেন তপন (২৬)।
তারা তিনটি লেমুরের মধ্যে একটি ৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে অর্থ ভাগাভাগি করে নেন। পরে বাকি দুটি লেমুর সাত লাখ টাকায় ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে বিক্রির চেষ্টা করেন। সেই প্রক্রিয়ায় মজনু মিয়া প্রাণীগুলো প্যাকেট ও হস্তান্তরে সহায়তা করেন।
এ চুরির কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। চুরি যাওয়া তিনটি লেমুরের মধ্যে একটি উদ্ধার করা গেছে; বাকি দুটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এই প্রতারক চক্রটি দেশের বিপন্ন ও বিরল প্রাণীগুলো চুরি করে সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশে পাচার করতো। তাদের পেছনে আরও বড় আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে। তারা বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছেন।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত সিআইডির গাজীপুর জেলা ও মেট্রো বিভাগ পরিচালনা করছে। অপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিং-টেইলড লেমুর মাদাগাস্কারের স্থানীয় প্রাণী এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিপন্ন তালিকাভুক্ত। আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ চুক্তি অনুযায়ী, এই প্রজাতির বাণিজ্য, সংরক্ষণ বা রপ্তানি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ অনুযায়ীও এদের শিকার, বিক্রয় বা পাচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
