Published : 15 Mar 2026, 02:34 PM
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যিনি লাশের ওপর নির্যাতন চালাতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি গোয়েন্দা পুলিশের।
শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার জামিরদিয়া ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন।
গ্রেপ্তার মো. সোহেল রানা (৩৪) টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার মহাইল গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে।
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও অন্য আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার দিন দিপু চন্দ্রকে কারখানার ফ্লোর থেকে গার্ড রুমে নেওয়ার সময় সরাসরি মারধরে অংশ নেন সোহেল। তিনি কারখানার কর্মীদের উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে উত্তেজিত করে তোলেন এবং দিপুর লাশের ওপর নির্যাতনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
সেখানে জনতাকে সহিংসতায় উৎসাহিত করার পেছনেও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে দাবি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের। পরে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সোহেলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এর আগে গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেলের নাম উঠে আসে। এ নিয়ে দিপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় সর্বমোট ২৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২ জন আসামি আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৮ ডিসেম্বর দিপু দাসকে হত্যার পর লাশ রশি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরদিন দিপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন।
দিপু হত্যা: 'কারখানার সামনে লোক জড়ো করা' বাবলু গ্রেপ্তার
দিপু হত্যা: 'স্লোগানের মাধ্যমে উসকানি দেওয়া' যুবক গ্রেপ্তার
দিপু দাস হত্যা: লাশ গাছে ঝোলাতে 'সহায়তাকারী' অনিক গ্রেপ্তার
দিপু দাসকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেন ফ্লোর ইনচার্জ: র্যাব