Published : 23 Feb 2026, 06:38 PM
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি।
গ্রেপ্তার যুবক হত্যাকাণ্ডের সময় কারখানার গেইটে লোক জড়ো করা এবং স্লোগান দিয়ে জনতাকে উসকানি দেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে ডিবি।
রোববার রাতে উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন।
গ্রেপ্তার বাবলু মিয়া (২৪) ওই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।
সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনার পর থেকে সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাত ৯টার দিকে ডিবির একটি দল পাইওনিয়ার ফ্যাক্টরির উত্তর গেইট সংলগ্ন একটি চায়ের দোকান থেকে বাবলুকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ঘটনার দিন বাবলু প্রথমে ফ্যাক্টরির গেইটে লোক সমবেত করেন। পরবর্তীতে তিনি উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে উপস্থিত জনতাকে উত্তেজিত ও একত্রিত করেন।
“তার নেতৃত্বে জনতা দিপু দাসকে গেইটের সামনে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, লাশটি স্কয়ার মাস্টারবাড়ি মেইন রোডে নিয়ে যাওয়ার পর জনতাকে সঙ্গে নিয়ে লাশের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাতেও বাবলু সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।”
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দিপু দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৮ ডিসেম্বর দিপু দাসকে হত্যার পর লাশ রশি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরদিন দিপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন।
দিপু হত্যা: 'স্লোগানের মাধ্যমে উসকানি দেওয়া' যুবক গ্রেপ্তার
দিপু দাস হত্যা: লাশ গাছে ঝোলাতে 'সহায়তাকারী' অনিক গ্রেপ্তার
দিপু দাসকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেন ফ্লোর ইনচার্জ: র্যাব