Published : 31 Dec 2025, 05:47 PM
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যিনি আগুন দেওয়ার আগে লাশ গাছে ঝোলাতে সহায়তা করেন বলে দাবি পুলিশের।
মঙ্গলবার বিকালে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার চেরাগআলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গ্রেপ্তার নিবির ইসলাম অনিক (২০) ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা (মধ্য ভাটিবাড়ি) গ্রামের মো. কালিমুল্লাহর ছেলে। তিনি ভালুকার একটি ফ্যাক্টরিতে ‘নিটিং অপারেটর’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৮ ডিসেম্বর দিপুকে হত্যার পর লাশ রশি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরদিন দিপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বুধবার বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরিহিত এক যুবক দিপুর নিথর দেহ রশি দিয়ে বেঁধে টেনে গাছের ওপর তোলেন। প্রযুক্তির সহায়তায় সেই যুবককে অনিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
ঘটনার পর থেকে অনিক পলাতক ছিলেন। তাকে ধরতে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। সবশেষ ঢাকার বনানী ও গাজীপুরের চেরাগআলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে তদন্তকারী দল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অনিক যে ফ্যাক্টরিতে কাজ করতের, ঘটনার পর থেকেই সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
দিপু দাস হত্যা: আরও ২ আসামি গ্রেপ্তার
দিপু দাসকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেন ফ্লোর ইনচার্জ: র্যাব
কোম্পানির লোকেরাই ভাইকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে: ময়মনসিংহে নিহতের বোন