Published : 21 Dec 2025, 12:39 PM
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর এলাকা থেকে শনিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান।
গ্রেপ্তররা হলেন- আশিকুর রহমান (২৫) ও কাইয়ুম (২৫)।
এ নিয়ে পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হল। এর আগে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
'ধর্ম অবমাননা': ময়মনসিংহে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা
ধর্ম নিয়ে 'কটূক্তির' অভিযোগে ময়মনসিংহে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
দিপু দাসকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেন ফ্লোর ইনচার্জ: র্যাব
গ্রেপ্তার বাকিরা হলেন- মো. লিমন সরকার (১৯), মো. তারেক হোসেন (১৯), মো. মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮), মো. মিরাজ হোসেন আকন (৪৬), মো. আজমল হাসান সগীর (২৬), মো. শাহিন মিয়া (১৯) ও মো. নাজমুল (২১)।
বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকায় ‘পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কোম্পানির’ শ্রমিক ২৮ বছর বয়সী দিপুকে দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর তার লাশ গাছের ডালের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
দিপু তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে তিনি এই কোম্পানিতে কাজ করছিলেন।
এ ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। সেই মামলায় র্যাব-১৪ সাত জনকে এবং পুলিশ আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। কেন ওই যুবককে পুলিশের হাতে না দিয়ে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
নিহতের বাবা রবি চন্দ্র দাসের অভিযোগ, “উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে দিপুকে মিথ্যা অপবাদে হত্যা করা হয়েছে।”
আর বোন চম্পা দাস বলছেন, “দিপু শিক্ষিত এবং সচেতন ছিলেন। তিনি এমন কাজ (ধর্ম অবমাননা) করতে পারেন না।”