Published : 15 Jun 2026, 08:51 AM
কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের লড়াইয়ে যে কারো বাজি স্প্যানিশদের পক্ষেই থাকবে। কিন্তু উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহে মিকেল মেরিনোর কপালে যেন একটু ভাঁজ পড়েছে। পা হড়কানোর ভয় কিছুটা হলেও পেয়ে বসেছে স্পেনের এই মিডফিল্ডারকে। তাই, তিনি বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন দেখছেন।
এবারের আসরে, এখন পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে দুই ম্যাচের ফল। অনেকের চোখে শক্তিশালী তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যটি, আফ্রিকার নতুন শক্তি হয়ে ওঠা মরক্কো ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।
আটলান্টায় সোমবার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে দিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপে পথচলা শুরু করবে স্পেন। এবারের আসরে অনেকের চোখে শিরোপার দাবিদারদের মধ্যে একটি তারা। কিন্তু, শিরোপা নয়, মেরিনোয় ভাবনায় আপাতত কেপ ভার্দে বাধা পেরিয়ে শুভসূচনা করা।
“গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নিজেদের দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং আমাদের কী ভালোভাবে করতে হবে, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া। কেপ ভার্দে ম্যাচটি আমাদের গুরুত্ব দিয়ে নিতে হবে, খেলতে হবে। এ ধরনের টুর্নামেন্টে ভালোভাবে শুরু করাটা জরুরি, যদিও সবসময় এটাই পথ নির্ধারণ করে না।”
খুব একটা ভুল বলেননি মেরিনো। ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পথে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছিল স্পেন। সেই ধাক্কা সামলে, দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে হয় উল্টো অভিজ্ঞতা; কোস্টা রিকাকে ৭-০ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে শুরুর পর, শেষ ষোলো থেকে ছিটকে গিয়েছিল দলটি। তবে, এবারের প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ মানছেন মেরিনো।
“শুরুটা সবসময়ই কঠিন। অন্য দলগুলোর বেলায় সেটা আমরা দেখছি। আমাদের প্রত্যাশা উঁচুতে, কেননা, আমরা নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে জানি, কিন্তু মাটিতেও পা রাখতে চাই আমরা।”
“যদি আমি ভুল না করে থাকি, কেপ ভার্দে ভালো ফর্মে আছে (গত মাসে সার্বিয়াকে প্রীতি ম্যাচে ৩-০ গোলে হারিয়েছে)। ভালো দলগুলোর বিপক্ষে তারা জিতছে। এ ধরণের প্রতিযোগিতায়, আপনি কারো বিপক্ষেই নির্ভার থাকতে পারবেন না। সম্মিলিতভাবে তারা ভালো এবং সাহসী দল।”
মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের ভার কাঁধে নিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আক্রমণভাগে আলো ছড়িয়েছিলেন মেরিনো; ছয় ম্যাচের সবগুলো খেলে গোল করেছিলেন ছয়টি। প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নেওয়ার পারদর্শিতার কারণে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা তাকে মাঝেমধ্যেই খেলিয়ে দেন সেন্টার-ফরোয়ার্ড পজিশনে।
স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অনুশীলনে অবশ্য মাঝমাঠেই থাকেন মিকেল। তবে, ২৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বললেন, সব পরিস্থিতির জন্যই তিনি প্রস্তুত রাখেন নিজেকে।
“ফরোয়ার্ড হিসেবে আমি খুব একটা অনুশীলন করি না। কিন্তু, এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয় আমাকে। বক্সে ঢুকতে হয় এবং আমি চেষ্টা করি, এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার।”