Published : 20 Jul 2026, 11:46 PM
বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধের ভূমি, দেশ সেদিকেই ফিরবে। যারা একাত্তরের চেতনা মুছে দিতে চেয়েছে, এরা এখন চিহ্নিত এবং এদের শাস্তি পেতেই হবে।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এক সমাবেশে লেখক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল এ মন্তব্য করেন।
২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার দুই বছরের এই প্রবাস জীবনকে ‘নির্বাসিত’ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, “বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত একাত্তরের আদর্শেই ফিরে যাবে।”
গত মে মাসে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলায়’ ঘোষিত নবী-জিনাত সাহিত্য পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে তুলে দিতে ‘একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন’ এ সমাবেশের আয়োজন করে।
মুক্তিযোদ্ধা নূরুন নবীর বাসভবনের আঙিনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা সমবেত হন।
পুরস্কার নিতে গিয়ে জাফর ইকবাল বাংলাদেশের গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “ওরা রিসেট বাটন টিপতে চেয়েছে। আমি পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে এর পরিণতি ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া জানি; ইতিহাস মুছে ফেলা এত সহজ নয়।”
নিজের শহীদ পিতার স্মৃতিচারণ করে তিনি মন্তব্য করেন, “এই দেশ কখনোই একাত্তরের পরাজিত শক্তির হতে পারে না।”
তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি তার প্রবাসে থাকা ছাত্রছাত্রীদের কেবল মিলিয়নিয়ার নয়, বরং ‘বিলিওনিয়ার’ হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে সেই অর্থ দিয়ে দেশে বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্মের জন্য নতুন শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা যায়।
জাফর ইকবালের স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বাংলাদেশের সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের চরম ক্ষতি যে লোকটি করেছেন, তার নাম ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার মনে যে এই বিষ জমা ছিল, তা কেউ বুঝতে পারেনি।”
এ শিক্ষাবিদ আরও জানান, তারা বর্তমানে ‘দেশহীন’ অবস্থায় থাকলেও অচিরেই একাত্তরের সেই বাংলাদেশে ফিরতে চান, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার সমুন্নত থাকবে।
তার মতে, “একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।”
দিনটি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ দিবস হওয়ায় তাকে স্মরণ করে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। ফকির ইলিয়াসের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন নূরুন নবী। বক্তব্য দেন জাকারিয়া চৌধুরী, বেলাল বেগ ও সেজান মাহমুদ।