Published : 20 Dec 2025, 03:37 PM
মারমা ভাষায় ‘রোয়া’ মানে পাড়া বা গ্রাম। ‘দ্ব’ মানে সেই গ্রামকে সম্মান ও উচ্চ মর্যাদার সাথে উল্লেখ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। আর ‘রোয়া-দ্ব’ শিরোনামেই বান্দরবানে শুরু হয়েছে চিত্র শিল্পী খিং সাই মং মারমার একক চিত্র প্রদর্শনী।
বান্দরবানে প্রথমবারের মত আয়োজিত চার দিনের এই প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে পাহাড়ের জীবন, জুমচাষ ও প্রাত্যহিক সংগ্রাম। রং তুলির আঁচড়ে যেমন ধরা পড়েছে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড, তেমনি জীবন্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়ের বিলুপ্ত বন্য পশুপাখি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের (কেএসআই) প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন বান্দরবান ৬৯ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম রাকিব ইবনে রেজওয়ান।
বিভিন্ন সময় বান্দরবানে দলগতভাবে চিত্র প্রদর্শনী হয়েছে। কিন্তু গ্যালারি সংকট এবং আয়োজনের ব্যয়ের কারণে এর আগে টানা চার দিন কোনো শিল্পীর একক চিত্র প্রদর্শনী করা সম্ভব হয়নি।
প্রদশর্নী শুরুর আগে কেএসআই অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভার আয়োজন করাহয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বান্দররবান সেনা রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম রাকিব ইবনে রেজওয়ান বলেন, খিংসাই মং আগে গভীর মনে পাহাড়-প্রকৃতি সম্পর্কে শিখেছে। তারপর এত সুন্দর কিছু সৃষ্টি করতে পেরেছে। এত অল্প সময়ে এই আয়োজন তার সৃজনশীল চিন্তা, তার মন মানসিকতা, তার বিচিত্র ভাবনার প্রদর্শনী করতে পেরেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান, সেনা রিজিয়নে জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হুমায়নু কবীর।
এদিকে শুরুর দিনেই গ্যালারিতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনাথীরা। তারা খিংসাই মং-এর আঁকা ছবি ঘুরে ঘুরে দেখেন। কেউ কেউ তুলেন সেলফিও।

দর্শনার্থী আসামুন্নী ও জিসান বলেন, বান্দবানের মত জায়গায় আর্ট গ্যালারিতে এসে ভাল লাগছে। এখানে ২৭টির মত ছবি স্থান পেয়েছে। ছবিগুলো অসম্ভব সুন্দর। আঁকা ছবির প্রতি যাদের আগ্রহ আছে তারা দেখলেই ভাল লাগবে।

দর্শনার্থী লেলুং খুমী বলেন, প্রদর্শনী দেখে ভাল লাগছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের জীবন-জীবিকা এবং তাদের ঐতিহ্য সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। এখানকার প্রকৃতির সৌন্দর্য এক কথায় অতুলনীয়।
স্থানীয় চিত্রশিল্পী আমিনুর রহমান প্রামানিক বলেন, বান্দরবানে এই ধরণের আয়োজনের জন্য র্দীঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। কেননা এখানে কোন আর্ট গ্যালারি নেই। এই আয়োজনের জন্য খিংসাই মংকে অনেক খরচেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ছেলেবেলায় গণিতের খাতায় ছবি আঁকা দিয়ে শুরু হয় খিংসাই মংয়ের শিল্প চর্চার আগ্রহ। এরপর ঢাকার নারায়নগঞ্জ চারুকলা একাডেমি থেকে চারুকলা বিষয়ে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি অব ডেভলভমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) থেকে স্নাতকোত্তর করা এই শিল্পী ঢাকায় বিভিন্ন আর্ট গ্যালারিতে দলগতভাবে চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে। কিন্তু এবারই বান্দরবানে তার প্রথম চিত্র প্রদর্শনী।

১৯ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সকাল দশটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে এই চিত্র প্রদর্শনী।
পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের প্রাঙ্গনে প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে স্থানীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও।