Published : 10 Sep 2025, 01:32 PM
সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে বাগেরহাটে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করছে ‘সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি’।
বুধবার ভোর ৬টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয় বলে বাগেরহাট সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সমন্বয়ক এম এ সালাম সাংবাদিকদের জানান।
তিনি বলেন, হরতালের ডাক ছিল তিন দিনের। সোমবার জেলাজুড়ে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। বুধবার ভোর থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়েছে; চলবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত।
এর আগে গত রোববার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে হরতালসহ পাঁচদিনের কর্মসূচি দেয় সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে হরতাল পালিত হচ্ছে।
হরতালের কারণে বাগেরহাটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দুরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি; বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটের সব গাড়ি।
জেলার সব অফিস-আদালতে কার্যক্রম পরিচালনা না করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।

হরতালের সমর্থনে জেলার সব হাটবাজারের দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে রামপাল ও মোংলা উপজেলা নিয়ে গঠিত তিন সংসদীয় আসনটি ভেঙে দিয়ে বাগেরহাট-২ ও চার নম্বর আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার খসড়া অনুমোদন দেয়।
নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের পর বাগেরহাটে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সীমানা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছে।
বাগেরহাট সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য বিএনপি নেতা এম এ সালাম বলেন, “নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে কমিয়ে তিনটি করার পর থেকে আমরা আন্দোলনে আছি।
“সবাই শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
তবে টানা হরতালে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে আসা যাত্রী সজিবুল ইসলামের সঙ্গে।
তিনি বলছিলেন, “খুলনায় জরুরি কাজে যেতে হবে। অনেক বাধা পেরিয়ে বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছতে খরচ হয়েছে হাজার টাকা। রাস্তায় যে পরিমাণ বাধা এর মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব কি-না জানি না।
“যে ভোগান্তিতে পড়েছি, তা বলার ভাষা নেই। এই সরকার নির্বাচন না দিয়ে কেন সীমানা নির্ধারণে ব্যস্ত আমি বুঝলাম না।”
রিকশা চালক শামসু লেখ বলেন, “বাগেরহাটে মানুষ যেভাবে আন্দোলন শুরু করেছে তাতে আমাদের মত গরীব মানুষ বিপদে পড়ছে।
“আমার ছয়জনের সংসার। রাস্তায় রিকশা নিয়ে বের হইছি, কিন্ত খ্যাপ মারতে পারতাছি না। কি আয় করব, আর কি দিয়ে চাল কিনে বাড়ি ফিরব বলতে পারি না।”
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হরতালে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে জেলার মহাসড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ।