সৌদি আরবে সড়কে নিহত শেরপুরের যুবক, লাশ ফেরাতে পরিবারের আকুতি
মো. রনি মিয়া নামে ওই যুবক ২১ এপ্রিল মারা যান।
সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মো. রনি মিয়া নামে ওই যুবক ২১ এপ্রিল মারা যান। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
পরিবার বলছে, সৌদি আরবের আল-হায়াত মেডিকেল হাসপাতালে তার মরদেহ সংরক্ষিত আছে। লাশ ফেরাতে মঙ্গলবার ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন নিহতের বড় ভাই মো. মনিরুজ্জামান।
মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর থেকে রনির গ্রামের বাড়িতে তার বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানেরা শোকে স্তব্ধ। বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
রনির বড় ভাই প্রভাষক মো. মনিরুজামান বলেন, রনি গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কখনো ব্যাটারিচালিত রিকশাও চালাতেন। ২০২৪ সালে ফুড ডেলিভারি কাজে সৌদিতে যান রনি। কিন্তু মাস দুয়েকের মাঝে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে শ্রমিক ভিসায় একই কাজে সৌদিতে যান রনি। ফের ওই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।
মনিরুজ্জামান বলেন, রনির সৌদি আরব যাওয়ার জন্য তিনি প্রথমে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা দেন। কিছু দিনের মধ্যে আহত হয়ে ফেরত আসায় এক টাকাও দিতে পারেননি রনি। পরবর্তীতে আবারও পরিবারের সদস্যরা তাকে চার লাখ টাকা দেন। সেই টাকাও খুব বেশি দিতে পারেননি রনি। এখন তারা লাশ ফেরানোর জন্য চেষ্টা করছেন।
রনির বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা আমাদের ছেলেকে আর জীবিত ফিরে পাব না। তবে তার লাশটি যেন দেশে এনে নিজের হাতে দাফন করতে পারি, সেই ব্যবস্থা চাই।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রকিব বাদশা বলেন, রনির লাশ শেষবারের মতো দেখার জন্য তার মা-বাবা, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান অপেক্ষায় আছেন। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবারে এখন অন্ধকার নেমে এসেছে। তারা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।
শেরপুর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. লেহাজ উদ্দিন বলেন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিহতের মরদেহ দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হতে পারে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বার্তা পাঠানো হবে।
