Published : 11 May 2026, 09:32 PM
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ঝগড়া মীমাংসা করতে সালিশ বৈঠকে বসে সংঘর্ষে জড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই পক্ষ। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের অন্তত দশজন আহত হয়েছেন।
সোমবার দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম।
তিনি বলেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খাঁ তাদের কর্মীদের নিয়ে এ সংঘর্ষে জড়ান। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ৫ মে সড়কে প্রাইভেট কার ও রিকশাকে ‘সাইড দেওয়া’ নিয়ে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে রফিকুলের অনুসারী আমিন হোসেনের ঝগড়া হয়। এ নিয়ে থানায় একটি অভিযোগও দিয়েছেন বিল্লাল হোসেন। এ ঝগড়ার মীমাংসার জন্য এদিন দুপুরে সালিশ ডাকা হয়।
সালিশে বিল্লাল হোসেন খাঁ ও রফিকুল ইসলাম দুজনই উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক শুরু হয়; যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার সময় উভয়পক্ষ দেশি ধারাল অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান এবং তখন আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলিও চলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, সালিশে তাদের ওপর শুরুতে হামলা চালানো হয়।
“সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে ঝগড়া হয়, সেটাকে মীমাংসা করতে গেলে ঘটনাকে বড় করে তোলেন বিল্লাল হোসেন। তারা পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়”, বলেন তিনি।
সংঘর্ষে রফিকুল তার অনুসারী সবুজ, শাহ আলম, মাহবুবসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

পাল্টা অভিযোগ করেছেন অপর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন খাঁ। তার দাবি, রফিকুলের নির্দেশে তার লোকজন হামলা চালিয়েছে। তার অন্তত পাঁচজন সমর্থক আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর সেখানে যান রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ূন। তিনি বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জ্যেষ্ঠ নেতাদের জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তারা পরবর্তী নির্দেশ দেবেন।”
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনও পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন।
তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।